

স্পেনের মাদ্রিদ ও আভিলা প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলের তাণ্ডবে ২৫ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা দিন-রাত কাজ করলেও, ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
মাদ্রিদের উপকণ্ঠের চাপিনেরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী এলভিরা মেনেন্দেজ গত রাতে স্থানীয় পৌরসভার একটি জিমনেশিয়ামে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে কুকুর ও মানুষের ভিড়ে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেননি তিনি। এএফপিকে তিনি বলেন, "স্বেচ্ছাসেবীরা আমাদের খুব ভালো দেখাশোনা করছেন, কম্বল ও গোসলের ব্যবস্থাও করেছেন। তবে আমি জীবনে কখনো এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখিনি।" আগুনের তীব্রতা দেখে তার মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবেন।
শনিবার সকালের দিকেও মাদ্রিদের গ্রামাঞ্চলের আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল, যা পরে বাতাসের কারণে কিছুটা পরিষ্কার হয়। ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র এল এসকোরিয়াল মঠও ধোঁয়ার ধূসর চাদরে ঢেকে যায়। চাপিনেরিয়ার কাছের ছোট শহর ব্রুনেটের মেয়র মার নিকোলাস জানান, আগুন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তার শহর প্রায় ১০০ জন বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল মানুষের জীবন রক্ষা করা।" তবে এই অগ্নিকাণ্ডে যে বিশাল প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
চাপিনেরিয়া থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন ৬১ বছর বয়সী গৃহ পরিচর্যাকারী ভিক্টোরিয়া হুরতাদোও। প্রতিদিন তিনি যে বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তির দেখাশোনা করেন, তাকে সঙ্গে নিয়েই বের হতে হয়েছে তাকে। তাড়াহুড়োয় তারা শুধু প্রয়োজনীয় কিছু কাপড় ও ওষুধসহ একটি ছোট ব্যাগ সঙ্গে নিতে পেরেছিলেন। হুরতাদো জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের ভালোভাবেই স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ নিজের বাড়িতে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত। অবশ্য দমকলকর্মীদের নিরলস পরিশ্রমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মূলত মে মাস থেকে পশ্চিম ইউরোপে আঘাত হানা একের পর এক রেকর্ড তাপপ্রবাহ এবং তীব্র খরা এই ভয়াবহ দাবানলের মূল কারণ। এর ফলে ফ্রান্স ও স্পেনের বন ও উদ্ভিদভূমি অত্যন্ত দাহ্য হয়ে উঠেছে, যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছে।
ভিলাভিসিওসা দে ওদোনের একটি ক্রীড়া হলে ছেলেসহ আশ্রয় নিয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী আন্তোনিও-লুইস রদ্রিগেস। শুধু পরনের কাপড় নিয়ে ঘর ছাড়া রদ্রিগেসের মূল দুশ্চিন্তা এখন তার কুকুরটিকে নিয়ে, যাকে তিনি সান মার্টিন দে ভালদেইগ্লেসিয়া গ্রামের উপকণ্ঠের একটি খামারে রেখে আসতে বাধ্য হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আশপাশের গ্রামাঞ্চলের ঝোপঝাড় ও ঘাস পরিষ্কার রাখার বিষয়ে প্রশাসন যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি।
রদ্রিগেসের মতে, গত শীতে প্রচুর বৃষ্টির কারণে ঘাস ও ঝোপঝাড় অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু স্পেনে অনেক খামার পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় পতিত জমিগুলোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে। ফলে অতিরিক্ত তাপে শুকিয়ে যাওয়া গাছপালায় সামান্য স্ফুলিঙ্গেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি জানান, ঘাস বেশি বেড়ে গেলে তিনি আগে নিজের জমিতে ভেড়া ছেড়ে দিতেন, যাতে তারা অতিরিক্ত ঘাস খেয়ে জমি পরিষ্কার রাখতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২