
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালির একটি মাইন পাতা নৌপথ অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স এ তথ্য জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আইআরজিসির এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সেন্টকমের মতে, এটি তাদের অন্যান্য দাবির মতোই একটি মিথ্যা প্রচারণা।
ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির পার্শ্ববর্তী বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক অবস্থায় বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ হয়ে গেছে’ ঘোষণা করার পর থেকে ইরানের ওপর টানা সপ্তমবারের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সেন্টকমের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মার্কিন কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সেতু, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই ও বিবিসি ফারসি জানিয়েছে, গারিভেহ সেতুতে হামলার ভিডিও যাচাই করে তারা সেতুর অংশবিশেষ ধসে পড়া ও ধ্বংসস্তূপ দেখেছে।
এর আগে শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছিল যে, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তারা হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার দাবি অস্বীকার করলেও, সিবিএস নিউজের তথ্যানুযায়ী গত এক সপ্তাহে জর্ডানের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। কুয়েতি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ইরানের ড্রোন হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ার পর থেকে চলমান এই উত্তেজনা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২