
শিশুদের অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলতার সমস্যা কেবল তাদের খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে বংশগত বৈশিষ্ট্য, শারীরিক সক্রিয়তা, ঘুমের ধরন, পারিবারিক পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগের মতো বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই শিশুকে একা ডায়েট বা ওজন কমানোর পরামর্শ না দিয়ে পুরো পরিবারকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (CDC) ‘শিশুদের স্থুলতা প্রতিরোধে পরিবার যা করতে পারে’ শীর্ষক নির্দেশনায় কিছু সহজ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুর সুস্থ ওজন বজায় রাখতে সহায়ক।
শিশুরা মূলত বড়দের আচরণ দেখে শেখে। তাই তাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে বা বাইরে খেলতে বলার পাশাপাশি পরিবারের বড়দেরও সেই অভ্যাসের অংশ হতে হবে। খাবারের তালিকায় শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম। এছাড়া পানীয়ের ক্ষেত্রে চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বা কৃত্রিম পানীয়ের পরিবর্তে পানিকে প্রধান পছন্দ হিসেবে বেছে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় ওজন বৃদ্ধি ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
শারীরিক সক্রিয়তার ক্ষেত্রে ৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা মাঠে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত। ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে সারা দিন ধরে বিভিন্নভাবে সক্রিয় থাকার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাও জরুরি, কারণ অপর্যাপ্ত ঘুম স্থুলতার ঝুঁকি বাড়ায় এবং ক্ষুধা ও শারীরিক সক্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
টেলিভিশন, মুঠোফোন বা কম্পিউটারের পর্দার সময় (স্ক্রিন টাইম) বয়স অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, যাতে শিশু অলস সময় না কাটিয়ে সক্রিয় থাকতে পারে। এছাড়া শিশুর ওজন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে পরিবারকে বিরত থাকতে হবে। ‘মোটা’ বা ‘বেশি খাচ্ছ’—এ ধরনের কথা শিশুর আত্মসম্মান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তার পরিবর্তে পুষ্টিকর খাবার ও সক্রিয় জীবনযাপনকে উৎসাহিত করা বেশি কার্যকর।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্দেশনা বাংলাদেশের পরিবারগুলোর জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শিশুর স্বাস্থ্যকর ওজন নিশ্চিত করতে শুধু তার খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। পরিবারের খাবারের ধরন, দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা, ঘুমের রুটিন এবং পর্দা ব্যবহারের অভ্যাস সবকিছুর দিকে একসঙ্গে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুকে আলাদা করে কঠোর খাদ্যনিয়ন্ত্রণে রাখার পরিবর্তে পরিবারের সবাই মিলে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা বা খেলাধুলা করা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। একটি শিশুর স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে পরিবারের প্রতিদিনের জীবনযাপন, আচরণ ও পরিবেশের মধ্য দিয়ে। স্থুলতা প্রতিরোধ তাই কোনো কঠিন খাদ্যনিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়, বরং এটি পুরো পরিবারের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২