প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ১৭
গুরুতর মানসিক রোগ এবং সহিংসতার ঝুঁকির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য খাতে আরও খোলামেলা ও ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন পরামর্শক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন এফ. মরগান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মানসিক রোগে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষই সহিংস নন এবং তাদের কোনোভাবেই সামাজিকভাবে কলঙ্কিত করা উচিত নয়। তবে কিছু গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে—এই অনস্বীকার্য বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।
অধ্যাপক মরগানের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে আসছে। এর পেছনে মূল কারণ ছিল—মানসিক রোগ ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করলে সেবা গ্রহণকারীদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা এবং সামাজিক কলঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এই ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া শেষ পর্যন্ত রোগী, তাদের পরিবার এবং সামগ্রিকভাবে সমাজের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
নিজের যুক্তির সপক্ষে মরগান বলেন, মানসিক রোগীদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য ও কলঙ্কের বিরোধিতা করা এবং একই সঙ্গে নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা—এই দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়। বরং একটি দায়িত্বশীল ও কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য এই দুই সত্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও মনে করেন, সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে যদি ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বন্ধ রাখা হয়, তবে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ও ধারাবাহিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা, নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা গেলে রোগী নিজে, তার পরিবার এবং সমাজের অন্যান্য মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সম্প্রতি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক দাতব্য সংস্থা 'মাইন্ড'-এর প্রধান নির্বাহী সারাহ হিউজ স্বীকার করেছেন যে, গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত একটি ক্ষুদ্র অংশের মানুষের সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য খাত আগে যথেষ্ট খোলামেলা ছিল না। মরগান এই স্বীকারোক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন, কারণ এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি অস্বস্তিকর ও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে মরগান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তার এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই মানসিক রোগীদের ঢালাওভাবে 'বিপজ্জনক' হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। তিনি এমন একটি পরিপক্ব মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন, যেখানে একদিকে রোগীদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য ও কলঙ্কের তীব্র বিরোধিতা থাকবে, অন্যদিকে বাস্তব ঝুঁকিগুলো নিয়ে চিকিৎসক, রোগী, পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সততা ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করতে পারবে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল…
ভোলার চরফ্যাশনে ইমামতির পাশাপাশি গত তিন দশক ধরে সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে চলেছেন…
বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদ বাতিলের চিঠির পর ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।…
সিরাজগঞ্জ শহরের পৌর ভাসানী মিলনায়তনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪০০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে…
আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের পর আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা সূত্রের…
বাংলাদেশ পুলিশের ১৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।…
This website uses cookies.