
হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির আধুনিক চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হয়েছে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজির (ইএসসি) নতুন নির্দেশিকা। ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১৩: ০৭ মিনিটে প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় হৃদরোগ ও দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগকে (সিকেডি) আলাদা দুটি সমস্যা হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত ‘হৃদযন্ত্র-কিডনি ব্যবস্থা’ হিসেবে বিবেচনা করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসাপদ্ধতিকে সহজভাবে তুলে ধরতে ‘STAMP on CKD’ নামক একটি বিশেষ কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগকে কেবল হৃদরোগের একটি সহায়ক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। এটি নিজেই হৃদরোগের উৎপত্তি, অগ্রগতি, চিকিৎসা এবং পরিণতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সাধারণত কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তাই হৃদরোগে আক্রান্ত বা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
কিডনির কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকেরা প্রধানত দুটি পরিপূরক পরীক্ষার ওপর জোর দিয়ে থাকেন। এর একটি হলো আনুমানিক গ্লোমেরুলার পরিস্রাবণ হার বা ইজিএফআর (eGFR), যা কিডনির রক্ত পরিশোধন ক্ষমতা পরিমাপ করে। অন্যটি হলো প্রস্রাবের অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন অনুপাত বা ইউএকর (UACR), যা প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি নির্ণয় করে কিডনির ক্ষতি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি নির্দেশ করে।
রোগীর সামগ্রিক ঝুঁকি নির্ধারণে বয়স, পূর্ববর্তী হৃদরোগের ইতিহাস, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের উপস্থিতি, ইজিএফআর-এর হ্রাস এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের মাত্রার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন। যাদের কিডনি রোগ দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে কিংবা ইলেকট্রোলাইটের মতো জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কিডনির কার্যক্ষমতা কমার সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকিও সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়। তবে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল কমানো, ধূমপান বর্জন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আধুনিক ডায়াবেটিস চিকিৎসার কিছু ওষুধ একই সাথে রক্তে শর্বরা নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদযন্ত্র ও কিডনিকে অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করে। তাই চিকিৎসকদের কেবল একটি অঙ্গের দিকে নজর না দিয়ে উভয় অঙ্গের সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১. আনুমানিক গ্লোমেরুলার পরিস্রাবণ হার (ইজিএফআর)। এটি কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত পরিশোধন করছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
২. প্রস্রাবের অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন অনুপাত (ইউএকর)। প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিনের পরিমাণ নির্ণয় করে কিডনির ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়। এই দুটি পরীক্ষা একে অন্যের পরিপূরক। ইজিএফআর মূলত কিডনির পরিশোধন ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেয়, আর প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি কিডনির ক্ষতির গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন এবং একই
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২