
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ২৪৯ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৮১ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তবে নতুন করে মৃত্যুর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৫০৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া বরিশালে ২২৮, খুলনায় ১৯৬, চট্টগ্রামে ১০৮, রাজশাহীতে ৯৮, ময়মনসিংহে ৯৬, রংপুরে ৪৬ এবং সিলেট বিভাগে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৬৫৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬ হাজার ৩১৮ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
মারা যাওয়া ৫৯ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৩৭ জন নারী (৬২.৭ শতাংশ) এবং ২২ জন পুরুষ (৩৭.৩ শতাংশ)। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাসপাতালে ১৮ জন, উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে সাতজন এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খুলনায় ১০, বরিশালে সাত, ময়মনসিংহে ছয়, চট্টগ্রামে পাঁচ, রাজশাহীতে তিন এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম সাত দিনে জেলায় ২০৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলায় ১৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন, যার মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭৪ জন, বিআইটিআইডিতে ১৭ জন, জেনারেল হাসপাতালে সাতজন, সিএমএইচ-এ ছয়জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১৬ জন এবং অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে ৩০ জন ভর্তি আছেন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ১ হাজার ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৫৯৭ জন, নারী ২৭০ জন এবং শিশু ১৭৬ জন।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলাতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। গত জুলাই মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৪৯ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ৪৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পাঁচজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুল আলম জ্বর দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আক্রান্তদের মশারি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাসগুপ্ত জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এর মধ্যে জানুয়ারিতে আক্রান্ত হয়েছে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন, জুনে ১২২ জন, জুলাইয়ে ৫৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
জাহাঙ্গীর আলম জানান, চলতি বছর আক্রান্তদের মধ্যে ৪১৮ জন নগরের বাসিন্দা এবং ৪৫০ জন জেলার এবং ১৭৪ জন অন্যান্য জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২