
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ আবারো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশের প্রায় সব জেলাতেই ছড়িয়ে পড়া এই রোগের সংক্রমণ গত ছয় মাসের তুলনায় চলতি মাসে অনেক বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসে এ পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২৬ জন। বছরের শুরু থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৪৪ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪৪ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ২৪ শতাংশ রাজধানী ঢাকার এবং বাকি ৭৬ শতাংশ রাজধানীর বাইরের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে বরিশাল বিভাগে ৩ হাজার ৯৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২ হাজার ৩৬৭ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ১ হাজার ৭৬৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১ হাজার ৩৭৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১ হাজার ৯২৫ জন, খুলনায় ১ হাজার ৭৪৯ জন, ময়মনসিংহে ৫৪৯ জন, রাজশাহীতে ৪৭০ জন, রংপুরে ২৫৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৮৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
মারা যাওয়া ৪৪ জনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ১৫ জন রয়েছেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬ জন, খুলনা বিভাগে ৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে একজন এবং সিলেট বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য ঢাকার ৭৭টি হাসপাতাল এবং বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত। তবে প্রকৃত চিত্র এর চেয়েও বিস্তৃত, কারণ অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তথ্য পাঠায় না।
বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গুর এই প্রকোপ বাড়ার পেছনে থেমে থেমে বৃষ্টি, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং অপরিচ্ছন্নতাকে দায়ী করছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি শহর ও গ্রামে প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি, ডাবের খোসা, ফুলের টব ও পরিত্যক্ত টায়ারে পানি জমে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তিনি বলেন, গ্রাম ও শহর এখন সমান অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল রাসায়নিক ধোঁয়া বা আইসিইউ প্রস্তুতির পরিবর্তে তৃণমূল পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে নিয়মিত চিরুনি অভিযান চালানোর ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি এবং এটি কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, বরং স্থানীয় সরকার, পরিবেশ, সমাজ কল্যাণ ও মা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী ফোন কেটে দেন এবং উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সরকারের তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০১৯ সালে প্রথম রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশ দেখা যায়।
এর পর থেকে ২০২১ সালে ১৭ শতাংশ, ২০২২ সালে ৩৭ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৬৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৬০ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৭৭ শতাংশ রোগী রাজধানীর বাইরে পাওয়া যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২