
সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী শাহেদ আহমেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিহত প্রবাসীর স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলীর কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। পরে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ই অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শাহেদ আহমেদ। সেখানে নেমে টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রী কাকলী বেগমকে শেষবারের মতো ফোন করেন তিনি। ফোনে স্ত্রীকে জানান, এক-দেড় ঘণ্টা পর বাসায় গিয়ে আবারও ফোন দেবেন। তবে সেই ফোন আর আসেনি। কথা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই ওই টার্মিনালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই শাহেদসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান।
ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে এমন নির্মম ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে শাহেদের পরিবার। স্বামীকে হারিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকা কোহিনুর আক্তার কাকলী জানান, সৌদি আরবে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় তিনি স্বামীকে যেতে দিতে চাননি, কিন্তু শাহেদ জোর করেই চলে যান। নিজেদের পছন্দের সম্পর্কের পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাদের বিয়ে হয়েছিল। দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জানিয়ে কোহিনুর বলেন, সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ নেই। তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকারের সহায়তার আকুতি জানান তিনি।
শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর গত ৭ই সেপ্টেম্বর প্রায় এক মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। ছুটি কাটানোর পর রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় নিজ কর্মস্থলে ফিরছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগে আরও দু’বার সৌদি আরবে গিয়েও কাজের ব্যবস্থা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল শাহেদকে। প্রায় দুই বছর আগে আবার গিয়ে প্রথমে শ্বশুরের কাছে থাকেন এবং পরে গাড়িচালকের চাকরি নেন। বছরখানেক জেদ্দায় প্লাম্বার হিসেবে কাজ করার পর পরিবার ও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন তিনি, যা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিমেষেই চুরমার হয়ে গেল।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে শাহেদের মরদেহ বহনকারী বিশেষ গাড়িটি পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঢাকা থেকে মরদেহের সঙ্গেই গ্রামে আসেন স্ত্রী কাকলী ও তাদের দুই সন্তান। কফিনের পাশে অবুঝ শিশুদের আহাজারি দেখে উপস্থিত হাজারো গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। শাহেদ শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও ছাহেরা বেগমের সন্তান। পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এদিকে সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় দুজন বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করে কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২