সবুজে ঘেরা চা-বাগান, পাহাড়, টিলা আর ঘন বনাঞ্চলের জন্য পরিচিত মৌলভীবাজার জেলা এখন পর্যটন উন্নয়নের আড়ালে প্রকৃতি ধ্বংসের এক বেপরোয়া প্রতিযোগিতার সাক্ষী। জেলাজুড়ে পাহাড় ও টিলা কেটে একের পর এক অবৈধ রিসোর্ট গড়ে তোলা হচ্ছে, যার কোনো বৈধতা বা সরকারি অনুমোদনের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কোনো দপ্তরে নেই। এই অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণের ফলে পুরো মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো আইনের তোয়াক্কা না করেই পাহাড়-টিলা কেটে কয়েকটি কক্ষ তৈরি করে সেগুলোকে ‘রিসোর্ট’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে পুরো জেলায় অন্তত ২০০টি রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলাতেই রয়েছে শতাধিক রিসোর্ট। রাধানগর এলাকায় অবস্থিত নভেম ইকো রিসোর্ট, বালিশিরা রিসোর্ট, নিসর্গ ইকো-রিসোর্ট, শান্তিবাড়ি ইকো রিসোর্ট ও মাধবীলতা ইকো কটেজসহ অন্তত ৪০টিরও বেশি রিসোর্ট এই এলাকায় রয়েছে। স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলায় ২০০টি রিসোর্ট থাকলেও প্রকৃত মানদণ্ড বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে মাত্র ১৫-২০টি।
কমলগঞ্জ উপজেলার চিত্রও একই। সেখানে সরকারি খাস ও বন বিভাগের জমি দখল করে পাহাড় ও টিলা কেটে অর্ধশতাধিক অবৈধ রিসোর্ট ও কটেজ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে মাধবপুর ইউনিয়নের টিলাগাঁও এলাকায় টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ ও আম্বার উড ইকো রিসোর্ট, পুরানবাড়ি এলাকায় বেকইয়ার্ড রিট্রেট ও কারাঞ্জা স্পা রিসোর্ট, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ছাতকছড়া এলাকায় সাউন্ড অব সাইলেন্স ও সপ্নটিলা ইকো রিসোর্ট এবং বনগাঁও এলাকায় অরণ্য নিবাস উল্লেখযোগ্য। এছাড়া শমশেরনগর এয়ারবেইজে সরকারি জায়গায় বিমান বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ও ছুটি গ্রুপের যৌথ পরিচালনায় ‘ছুটি’ নামে একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। নুরজাহান সড়কে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষেও নামে-বেনামে অসংখ্য কটেজ ও রিসোর্ট গড়ে উঠছে।
এসব রিসোর্ট ব্যবসায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, বন বিভাগ ও অসাধু সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় বড় কোম্পানি, ধনাঢ্য ব্যক্তি, আইনজীবী, ব্যাংকের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সরকারি প্রকৌশলী এমনকি জনপ্রিয় অনেক তারকাও এসব রিসোর্টে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছেন। মূলধারার রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেকে স্থানীয়দের কাছ থেকে মাত্র ২-৩ শতক জমি কিনে রিসোর্ট নাম দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশতেই সিসি ক্যামেরা, নৈশপ্রহরী বা নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই এবং মালিকরা নিজেরাই ম্যানেজার হিসেবে গোপনে সবকিছু পরিচালনা করছেন।
শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী সেলিম আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রীমঙ্গলে প্রকৃত অর্থে রিসোর্ট বলতে মাত্র ১০-১৫টি আছে। সরকারি নিয়ম মেনে কর দিয়ে যারা ব্যবসা করছেন, তারা নামসর্বস্ব এসব অবৈধ রিসোর্টের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পরিবেশবাদী সাংবাদিক নুরুল মোহাইমিন মিল্টন বলেন, পাহাড়-টিলা ও প্রাণীদের আবাসস্থল ধ্বংস করে রিসোর্ট বানানো হলেও সরকারের কোনো তদারকি নেই। অবিলম্বে সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা উচিত।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জানান, রিসোর্টগুলোর তালিকা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন। মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, জেলায় মাত্র ৬০টির মতো রিসোর্ট তাদের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে, বাকিগুলোর অনুমোদন সম্পর্কে তাদের কাছে তথ্য নেই। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, জেলা প্রশাসন মূলত পাঁচ ও তিন তারকা মানের হোটেল-রিসোর্টগুলো তদারকি করে, ছোট রিসোর্টগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাদের জানা নেই।
সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের শুরুতে শেয়ারবাজারের সূচক, ব্যাংক খাতের সুদের হার, বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার…
নেপালে ভয়াবহ বন্যার এক মাস পার হলেও হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এজেন্সির তথ্যানুযায়ী,…
পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি আয় ৪.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। দুই দেশের…
গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষের বছরে এসে বিশ্ব নদী দিবসে পদ্মার দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত অববাহিকাভিত্তিক…
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাইমা রহমান। তাঁর…
সুন্দরবন উপকূলীয় খুলনার কয়রা উপজেলার কেওড়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ৫ বছরেও শেষ হয়নি। প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়…
This website uses cookies.