
দালিয়ান, নিউইয়র্ক এবং ঢাকা—এই তিনটি স্থানের নাম বাংলাদেশের নতুন জলবায়ু কূটনীতির মূল ভিত্তি। চীনের দালিয়ানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বার্তা দিয়েছেন, তা ছিল বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিউইয়র্কের মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে এই অবস্থানকে আন্তর্জাতিক দরকষাকষির শক্তিতে রূপান্তর করার পালা। আর সবশেষে, ঢাকায় এসব প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যকর করাই হবে বড় পরীক্ষা। এই তিন ধাপের সমন্বয়ই বাংলাদেশকে জলবায়ু কূটনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির মতো বাস্তব সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে দালিয়ানে প্রধানমন্ত্রী কেবল ক্ষতির কথা বলেননি; বরং তিনি সবুজ অর্থনীতি, অভিযোজন এবং সহনশীল উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বের সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। জলবায়ু এখন আর কেবল পরিবেশের বিষয় নয়, এটি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য এবং ভূরাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নতুন সরকারের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবার এতে অংশ নিচ্ছেন। এই কূটনৈতিক পুঁজিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এখন আবেদনের ভাষা থেকে দরকষাকষির ভাষায় যেতে হবে। শুধু নতুন প্রতিশ্রুতির খোঁজ না করে পুরনো প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে অর্থ দ্রুত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, বৈশ্বিক দক্ষিণের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে নিয়ে একটি কার্যকর জোট গঠন বাংলাদেশের দাবিকে আরও জোরালো করতে পারে।
কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য ঢাকার হাতে বাস্তব উদাহরণ থাকা জরুরি। সরকার ব্যাটারিসহ রুফটপ সোলার বা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের যে ব্যবস্থা করেছে, তা বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি খাতের একটি বড় দৃষ্টান্ত। এটি মানুষকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভোক্তা থেকে উৎপাদকে পরিণত করছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সুযোগ সাধারণ মানুষের কাছে কতটা সহজলভ্য, আবেদন প্রক্রিয়া কতটা সহজ, গ্রিড সংযোগ কত দ্রুত এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের মূল্য সময়মতো পাওয়া যাবে কি না—এসব প্রশ্নের সমাধান করা প্রয়োজন। বাস্তবায়নের অর্থ শুধু প্রকল্প শেষ করা নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা।
বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ আনা এবং নতুন অর্থনৈতিক বাজার তৈরি করা। এক্ষেত্রে চীন, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাই মুখ্য। একটি সুনির্দিষ্ট 'ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি রোডম্যাপ' তৈরির মাধ্যমে কোন দেশ থেকে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ আনা হবে এবং তার ফলাফল কীভাবে পরিমাপ করা হবে, তা নির্ধারণ করা জরুরি। দালিয়ানের রাজনৈতিক বার্তা, নিউইয়র্কের দরকষাকষি এবং ঢাকার বাস্তবায়ন—এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলেই বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে সহানুভূতি চাওয়ার পরিবর্তে ন্যায্য অর্থায়ন ও সহযোগিতার দাবি নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়াতে পারবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২