‘মুরব্বিরা যা বলে বুদ্ধিমানরা সেই মতোই চলে’, ‘মামা বলত ভাগনে বেশি লোভ করিসনে’ কিংবা ‘আমার দুঃখ আছে কিন্তু কষ্ট নাই’—নব্বইয়ের দশকের ঢালিউড দর্শকদের মুখে মুখে ফেরা এই জনপ্রিয় সংলাপগুলোর কথা মনে করলেই ভেসে ওঠে খল অভিনেতা নাসির খানের মুখ। ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা যান এই গুণী অভিনেতা। আজ প্রয়াত এই অভিনেতার জন্মদিন। প্রিয় এই মানুষকে ছাড়া দীর্ঘ ১৯ বছর কীভাবে পার করছে তাঁর পরিবার?
পুরান ঢাকার বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনির পাশের গলিতেই ছিল নাসির খানের বাসা। এলাকার সবার প্রিয় এই মানুষের বাড়িটি দেখতে এখনো অনেকে আসেন। বারান্দায় দাঁড়ালে আজও শোনা যায় রিকশা থেকে কেউ বলছেন, ‘ওই দেখ নাসির খানের বাড়ি, এই বাড়ি নাসির খানের’। এই বাড়িতেই তাঁর মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে একা হাতে বড় করেছেন তাঁর স্ত্রী মেহেরুন্নেসা স্বপ্না।
সংসারের মূল অভিভাবককে ছাড়া দিন কাটানোর কঠিন লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে মেহেরুন্নেসা স্বপ্না জানান, তিন মেয়েকে বড় করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। একা হাতেই মা-বাবার সবটুকু স্নেহ দিয়ে তাদের মানুষ করেছেন। তিনি বলেন, ওদের বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো মেয়েদের শৈশব, পড়াশোনা ও জীবনযাপন অন্য রকম হতে পারত। তবে তিনি মেয়েদের বাবার আদর্শেই গড়ে তুলেছেন। ইতিমধ্যে বড় দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, আর ছোট মেয়ে পড়ছেন ও-লেভেলে। বাবার অভাব সব সময় অনুভব করলেও তারা এখন ভালো আছেন।
নাসির খানের তিন মেয়ের মধ্যে বড় দুজন—নাছিমা খানম মমতা ও ফাহিমা খানম শর্মিতা বাবাকে পেলেও ছোট মেয়ে মহিমা খানম নিশিতা বাবার কোনো স্মৃতি মনে করতে পারে না। বাবার মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র এক বছর। নিশিতা অন্যদের কাছে বাবার গল্প শুনেছে। টেলিভিশনে বাবাকে দেখলে তার মন খারাপ হয়, কারণ সে বাবাকে ‘বাবা’ বলে ডাকতে পারেনি। তবে বাইরে বের হলে যখন দেখে বাবার প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা, তখন গর্বে বুক ভরে ওঠে নিশিতার। সে জানায়, অভিনেতা নাসির খানের মেয়ে হিসেবে সে গর্বিত এবং আজ বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো তাদের নিয়ে ঘুরতে যেতেন, বাবার আদর পেতেন।
শৈশবে বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার স্মৃতি এখনো মনে পড়ে মেজ মেয়ে ফাহিমা খানম শর্মিতার। তিনি জানান, বাবা শুটিংয়ে অনেক ব্যস্ত থাকলেও দুই বোনকে হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যেতেন, পরীক্ষার হলে দিয়ে আসতেন এবং প্রতি শুক্রবার ঘুরতে নিয়ে যেতেন। কখনো দেশের বাইরেও নিয়ে যেতেন। বাবার মৃত্যুর পর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পর্দায় বাবার কোনো ছবি দেখেন না শর্মিতা, কারণ বাবাকে স্ক্রিনে দেখলে তাঁর কষ্ট হয়। তবে সিনেমা দেখার সময় যখন খল চরিত্রের সংকট দেখেন, তখন বাবার কথাই মনে পড়ে। তিনি বলেন, পর্দায় খলনায়ক হলেও বাস্তবে বাবা অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন এবং সবার সাথে সুসম্পর্ক রাখতেন। গত ১৫ বছরে বাবার নামে কারও মুখে কোনো খারাপ কথা শোনেননি তিনি।
১৯৫৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া নাসির খান দীর্ঘ ২৭ বছরের ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘গরিবের রাণী’। ২০০৭ সালে এক-এগারোর ডামাডোলের মধ্যে তাঁর মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমে সেভাবে প্রচারিত না হওয়ায় অনেক ভক্ত এখনো ভাবেন তিনি বেঁচে আছেন। চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁকে নিয়ে তেমন কোনো আয়োজন না থাকলেও প্রতি বছর জন্মদিনে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও এতিমদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ক্লুলেস ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামালসহ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে অবদানের…
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা না নেওয়া এবং সিসিটিভি…
মানবজমিন পত্রিকায় রিপোর্টার পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীতদের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে…
ফরিদপুরের ভাঙ্গা টোলপ্লাজায় একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১২০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করেছে র্যাব-১০।…
মৌলভীবাজারের জুড়ী সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ…
This website uses cookies.