
ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরকে দল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বৃটিশ সংগীত তারকা এড শেরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তার সব সহশিল্পী। শিল্পীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করার অভিযোগ তুলে তারা একে একে এই সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পপ তারকা বিলি আইলিশের ভাই ও সংগীতশিল্পী ফিনিয়াস। তিনি বলেন, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণে কোনো শিল্পীর মুখ এভাবে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। ফিনিয়াসের পাশাপাশি আইরিশ সংগীতশিল্পী অ্যারন রো, ডেনিশ ব্যান্ড লুকাস গ্রাহাম এবং আইরিশ ফোক ব্যান্ড বিওগাও শেরানের সফর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিওগা ব্যান্ডের সদস্যরা নিয়মিত শেরানের সঙ্গে একই মঞ্চে গান পরিবেশন করতেন। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলায় কণ্ঠরোধের নীতি সমর্থন করে, তেমন কোনো মঞ্চে তারা আর গান গাইবেন না।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের শুরুর দিকে, যখন নিউ জার্সিতে দুটি কনসার্ট চলাকালে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো আওয়াজ তোলেন ম্যাকলমোর। সে সময় তিনি গাজায় ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র বড় পর্দায় প্রদর্শন করেন এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উৎসর্গ করে নিজের একটি গান পরিবেশন করেন। কনসার্টে উপস্থিত ইহুদি দর্শকদের উদ্দেশে ম্যাকলমোর বলেন, ইসরাইলের নীতি ও গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলার অর্থ সাধারণ ইহুদিদের আক্রমণ করা নয়। তবে তার এই পদক্ষেপের পর কয়েকটি ইসরাইলপন্থি গোষ্ঠী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন ভেন্যু কর্তৃপক্ষ ও কনসার্ট আয়োজক সংস্থার চাপের মুখে পড়ে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়া হয়। এমনকি মার্কিন ধনকুবের রবার্ট ক্রাফট তার নিজস্ব ভেন্যুতে ম্যাকলমোরকে গান গাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ম্যাকলমোরকে দল থেকে না সরালে পুরো কনসার্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর এড শেরান এক বিবৃতিতে জানান, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার নিজের নয়, bরং আয়োজকদের।
শেরান গাজা সংঘাতকে একটি মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করলেও স্পষ্ট করেন যে, তিনি তার সংগীতের মঞ্চকে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্র বানাতে চান না। তবে শেরানের এমন ব্যাখ্যার পরও সহশিল্পীদের সফর বয়কটের সিদ্ধান্ত বদলায়নি। এদিকে দল থেকে বাদ পড়ার পর ম্যাকলমোর নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, নিপীড়ক ও নিপীড়িতের মাঝে কোনো নিরপেক্ষ অবস্থান থাকতে পারে না। ফিলিস্তিনের অধিকারের কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পারাকেই নিজের জীবনের বড় সাফল্য বলে মনে করেন এই র্যাপার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২