
কন্নড় সুপারস্টার যশের বহুল প্রতীক্ষিত প্যান-ইন্ডিয়া ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ বক্স অফিসে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। মুক্তির আগে ১০০০ কোটি রুপির ক্লাবে ঢোকার স্বপ্ন দেখা এই ছবিটি এখন ৩৫০ কোটি রুপির ঘর পার করতেই হিমশিম খাচ্ছে। গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই ছবিটি কি তবে প্রভাসের বহুল আলোচিত ফ্লপ ছবি ‘অ্যাডিপুরুষ’-এর চেয়েও বড় লোকসানের মুখ দেখতে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চলচ্চিত্র মহলে।
‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অভূতপূর্ব সাফল্যের পর দীর্ঘ চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরেছিলেন ‘রকিং স্টার’ যশ। বিশাল বাজেট ও তারকাখচিত কাস্ট নিয়ে নির্মিত ‘টক্সিক’ ছবিটিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। গত ২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রথম দিনে রেকর্ড গড়ার মতো সূচনা করলেও, সেই ধারা বজায় রাখতে পারেনি ছবিটি। দ্বিতীয় দিন থেকেই এর আয়ে বড় পতন শুরু হয়।
মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে ভক্তিমূলক চলচ্চিত্র ‘হনুমান অংশ’র জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রেক্ষাগৃহে শো হারাতে শুরু করে ‘টক্সিক’। এরপর ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’ মুক্তি পেলে ছবিটির ব্যবসায়িক অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে। গত ৯ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ মুক্তির ১৫তম দিনে এসে ভারতে ছবিটির দৈনিক আয় নেমে দাঁড়ায় মাত্র ৬০ লাখ টাকায়। সেদিন বিশ্বজুড়ে মোট আয় ছিল ১ কোটি টাকারও কম। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মুক্তির প্রথম দিকে দৈনিক আয় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা স্পর্শ করেছিল।
বাণিজ্যিক বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে ‘টক্সিক’ ছবির নেট আয় ২৪৭ কোটি টাকা এবং বিদেশে আয় ৪৫ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে ছবিটির গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ৩৩৯ কোটি টাকায়, যার নেট মূল্য প্রায় ২৭০ কোটি টাকা। ছবিটির সঠিক বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও বিভিন্ন সূত্রে এটি ৫০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। সবচেয়ে রক্ষণশীল হিসাব ধরলেও ছবিটি তার নির্মাণ খরচের চেয়ে অন্তত ২২৩ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে।
এই বিপুল লোকসান সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিপর্যয়। এমনকি ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া প্রভাসের ‘অ্যাডিপুরুষ’ ছবির ২২০ কোটি টাকার লোকসানকেও এটি ছাড়িয়ে গেছে। ওম রাউতের পরিচালনায় ৫৫০ কোটি টাকা বাজেটের ‘অ্যাডিপুরুষ’ নেট আয় করেছিল প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা। সেই তুলনায় ‘টক্সিক’ আরও বড় ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ‘টক্সিক’ ছবিতে যশের বিপরীতে অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। মুক্তির আগেই ছবিটির কিছু উত্তেজক দৃশ্য এবং নারীদের উপস্থাপনের ধরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে কোনো ধরনের দৃশ্য কর্তন ছাড়াই সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) ছবিটিকে ‘এ’ সার্টিফিকেট প্রদান করেছিল। প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির চলার মেয়াদ এখন প্রায় শেষের দিকে, যার ফলে লগ্নির টাকা তুলে আনা এখন অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২