২০০১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন অপেরা হাউসে এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের (ভিএমএ) মঞ্চে ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সেই অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সের ২৫ বছর পার হলেও এটি এখনো পপ সংস্কৃতির অন্যতম আইকনিক মুহূর্ত হিসেবে টিকে আছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা ব্রিটনি তার ‘আই’ম আ স্লেভ ৪ ইউ’ গানটির সরাসরি পরিবেশনায় দর্শকদের উপহার দিয়েছিলেন এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা।
মঞ্চে ব্রিটনির আগমন ছিল নাটকীয়। একটি সোনালি ধাতব খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার সঙ্গে ছিল একটি জীবন্ত সাদা বাঘ। তার পরনে ছিল শ্যাওলা-সবুজ রঙের ব্রা-সদৃশ টপ, অ্যাকোয়ামেরিন রঙের শর্টস এবং ঝলমলে পাথরখচিত বুট। পোশাকটি তৈরি করেছিলেন ডিজাইনার কার্ট সোয়ানসন ও বার্ট মুলার। তাদের নকশায় জঙ্গল-অনুপ্রাণিত রং, সিল্ক শিফন এবং অসংখ্য স্বরোভস্কি ক্রিস্টালের ব্যবহার ছিল, যা ফ্রাঙ্ক ফ্রাজেটা ও বরিস ভ্যালেহোর জঙ্গল-যোদ্ধা রাজকন্যাদের চিত্র এবং ঐতিহ্যবাহী বেলি ড্যান্সের আদলে তৈরি করা হয়েছিল।
পরিবেশনার সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল প্রায় ৭ ফুট লম্বা ও ২০ পাউন্ড ওজনের ‘বানানা’ নামের একটি অ্যালবিনো বার্মিজ অজগর, যা ব্রিটনি তার কাঁধে জড়িয়ে নাচেন। এই পারফরম্যান্সের নেপথ্যে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। বাঘটির প্রশিক্ষক ছিলেন ভগবান ‘ডক’ অ্যান্টল, যিনি মঞ্চে বন্য প্রাণীটির সঙ্গে নিরাপদে থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রধান কোরিওগ্রাফার ওয়েড রবসন বাঘের দৃষ্টিসীমা মাথায় রেখে মঞ্চের বিন্যাস করেছিলেন এবং সেট ডিজাইনার রে উইঙ্কলার জানিয়েছেন, বাঘটিকে ক্ষুধার্ত না রাখতে অনুষ্ঠানের আগে কাঁচা মাংস খাওয়ানো হয়েছিল।
সংস্কৃতি সমালোচক অ্যাম্বার হর্সবার্গের মতে, সেই সময়ের এমটিভির বিশাল প্রভাব এবং দর্শকদের হাতে স্মার্টফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না থাকার কারণে এই পারফরম্যান্সের অভিজ্ঞতা ছিল অনন্য। কোরিওগ্রাফার ব্রায়ান ফ্রিডম্যান ব্রিটনিকে অত্যন্ত পরিশ্রমী শিল্পী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি মঞ্চের মহড়ায় ঘাম ঝরানো ভালোবাসতেন। বর্তমানে ব্রিটনি স্পিয়ার্স তার স্মৃতিকথা ‘দ্য উইমেন ইন মি’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এবং মঞ্চে ফেরার ইচ্ছা আর নেই বলে জানিয়েছেন। তবুও, ২৫ বছর পরও ‘বানানা’কে কাঁধে নিয়ে ব্রিটনির সেই নাচ সংগীত, ফ্যাশন ও তারকাখ্যাতির এক বিশেষ যুগের প্রতীক হয়ে আছে।
তার মতে, ব্রিটনি স্পিয়ার্সকে অনেকেই ‘তৈরি করা পপ তারকা’ বা ‘পুতুল’ হিসেবে দেখলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। মঞ্চে থাকা, নাচের মহড়ায় ঘাম ঝরানো এবং পারফরম্যান্স তৈরি করা তিনি সত্যিই ভালোবাসতেন।তবে আজকের ব্রিটনি স্পিয়ার্সের জীবনের সঙ্গে সেই সময়ের বড় পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘ কনজারভেটরশিপ থেকে মুক্ত হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ২০২৩ সালের স্মৃতিকথা ‘দ্য উইমেন ইন মি’-তে নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
রাজশাহীর ডিঙ্গাডোবায় মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম হত্যা মামলায় পান দোকানি হানিফ আলী ও তার ভাইকে ফাঁসানোর…
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ফেডারেশন উয়েফার মধ্যকার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।…
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গভর্নর গ্যাভিন…
ভোলার মনপুরা উপজেলায় ১০০ ইয়াবা উদ্ধারসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট…
বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের জন্মদিনে আলিয়া ভাট শেয়ার করলেন তাদের একান্ত ভালোবাসার মুহূর্তের ছবি, যা…
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন…
This website uses cookies.