
দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী বছরের মধ্যে স্কুল ফিডিং বা ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলে গিয়েই খাবার পাবে। সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই তথ্য জানান। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সোমবার এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
দেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটি ১ লাখের বেশি, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতেই পড়াশোনা করছে ১ কোটি ৬ লাখের বেশি শিশু। শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা দূর করা ও ক্ষুধা নিবারণকে প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় খাবার পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ করা এবং ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নির্ধারিত খাদ্য তালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বর্তমানে বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ (আলট্রা হাই টেম্পারেচার পদ্ধতিতে সংরক্ষিত দুধ, যা প্যাকেট খুলে সরাসরি পান করা যায়) এবং বাড়তি পুষ্টিসমৃদ্ধ ফর্টিফায়েড বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। দিনভেদে খাবারের এই তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়। যেমন, সপ্তাহের রবিবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেওয়া হয় বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম। সোমবার দেওয়া হয় বানরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং মঙ্গলবার দেওয়া হয় ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও কলা।
বর্তমান বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে এই খাবারের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে প্রতিটি সেদ্ধ ডিম ১৪ টাকা, কলা ১০ টাকা, বানরুটি ২৫ টাকা, দুধ ২৯ টাকা এবং বিস্কুট ১৯ টাকা ধরা হয়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব খাবার সরবরাহ করছে। এর মধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠান দুধ, ২টি প্রতিষ্ঠান বিস্কুট এবং ১২টি প্রতিষ্ঠান বানরুটি, ডিম ও কলার প্যাকেজ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে।
তবে সম্প্রতি দেশের কিছু এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অধীনে পচা বা কাঁচা কলা, নষ্ট সেদ্ধ ডিম এবং নিম্নমানের বানরুটি বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, গত কোরবানির ঈদের পর এই কর্মসূচিতে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি নিজেই গত এক মাসে ১২ থেকে ১৪টি জেলা পরিদর্শন করেছেন। শুরুতে যেসব দুর্বলতা বা অনিয়ম ছিল, তা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে অনিয়ম রোধ করতে মায়েদের যুক্ত করে ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ বা অভিভাবক কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ভবিষ্যতে খাবারের মেন্যুতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, অনেক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এই খাবারের ধরন ঠিক করা হয়েছে। তবে পুষ্টিমান বজায় রেখে অন্য কোনো ধরনের খাবার দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় চলমান এই কর্মসূচির ৩ বছরের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। আগামী বছর থেকে দেশের বাকি ৩৪৮টি উপজেলাসহ পুরো দেশে এই মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হলে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার আগামী বছরের মধ্যে দেশব্যাপী সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি একযোগে চালু করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২