
দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর সরকারপাড়া এলাকার সাদিয়া আফরিন এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা সাদিয়ার পড়ার জন্য কোনো টেবিলও ছিল না। কখনো বিছানায়, আবার কখনো মায়ের সেলাই মেশিনের ওপর বই রেখে পড়তে হয়েছে তাকে। অন্যের লিচুবাগানের ভেতর দিয়ে সরু পথ পেরিয়ে তাদের টিনের ছাপড়া ঘরে পৌঁছাতে হয়। সাদিয়ার বাবা মো. সেলিম একজন চালকল শ্রমিক এবং মা আরফা বেগম গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করেন।
সাদিয়ার এই সাফল্যের পেছনে বড় অবদান রেখেছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের বিশেষ তদারকি। গত বছরের জুলাই মাসে সাদিয়ার মা আরফা বেগম মেয়ের পড়াশোনার আর্থিক সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। এরপর জেলা প্রশাসক সাদিয়াকে ডেকে তার পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং তাকে পড়াশোনার কৌশল শিখিয়ে দেন। তিনি সাদিয়াকে সাত দিনের পড়া ঠিক করে দিতেন এবং প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে পড়া দেওয়ার নিয়ম করে দেন।
জেলা প্রশাসক শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, নিয়মিত পড়াশোনার রুটিন তদারকি করেছেন। সাদিয়া প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে পড়া দিত, ভুল সংশোধন করত এবং নতুন পড়া নিয়ে বাড়ি ফিরত। এভাবে পুরো এক বছর নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। জেলা প্রশাসক নিজেও সাদিয়ার বিদ্যালয় কাদের বকস মেমোরিয়াল হাই স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে তার খোঁজখবর নিতেন।
১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সাদিয়ার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির খবরে পরিবারে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। এরপর সাদিয়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করলে তিনি তাকে অভিনন্দন জানান ও মিষ্টিমুখ করান। সাদিয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকসেদ আলী জানান, বিদ্যালয় থেকে ৪৩ জন অংশ নিয়ে ২২ জন পাস করেছে, যার মধ্যে একমাত্র সাদিয়া জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সাদিয়ার মা আরফা বেগম জানান, ডিসি স্যার শুধু অর্থ দিয়ে নয়, নিয়মিত পড়া নিয়ে ও সাহস দিয়ে মেয়েকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছেন। বাবা মো. সেলিম মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানান। সাদিয়া বড় হয়ে সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন দেখে। দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাবিবুল হাসান জানান, গত দেড় বছরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪০০ দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সাদিয়ার মধ্যে শেখার আগ্রহ ছিল, তাই সে রুটিন মেনে হোমওয়ার্কগুলো সম্পন্ন করেছে। এ ধরনের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২