

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সব ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন অদম্য মেধাবী স্বপ্না আক্তার। নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলা এই তরুণীর সফলতার গল্প উঠে এসেছে প্রথম আলো ট্রাস্টের নিয়মিত আয়োজন ‘অদম্য মেধাবীদের সঙ্গে’ অনুষ্ঠানে। গত ১০ জুন ২০২৬, বুধবার বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে আয়োজিত বিশেষ এই পর্বে অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি।
স্বপ্না আক্তার প্রথম আলো ট্রাস্টের অদম্য তহবিল থেকে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে নিজের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে তিনি বর্তমানে সেনা কল্যাণ ট্রাস্ট বা আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠান ‘আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড’-এর ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগে জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারি মাসে তিনি এই চাকরিতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানা এবং সাক্ষাৎকারটি অনুলিখন করেছেন ট্রাস্টের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. নাজিম উদ্দিন।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর মাত্র ছয় মাসের অভিজ্ঞতায় করপোরেট জগতের চমৎকার কর্মপরিবেশের কথা জানান স্বপ্না। তিনি বলেন, সেখানে সিইও থেকে শুরু করে সহকর্মীরা সবাই অত্যন্ত আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতি মাসের শুরুতে আয়োজিত ‘সিইওস অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে সরাসরি শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার ও মতপ্রকাশের সুযোগ তাদের কাজের পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তবে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথটি স্বপ্নার জন্য মোটেও সহজ ছিল না।
শৈশবে নোয়াখালীর চরাঞ্চলে দুরন্ত সময় কাটানো স্বপ্নার মনে ছোটবেলা থেকেই স্বাবলম্বী ও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ার জেদ কাজ করত। নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর যখন তিনি অনার্সে পড়ার জন্য ঢাকায় আসার সিদ্ধান্ত নেন, তখন পরিবার ও গ্রামের মানুষের পক্ষ থেকে তীব্র বাধা আসে। ঢাকায় কোনো আত্মীয় না থাকায় একা মেয়েকে পাঠানোর বিরোধিতা করে তার বিয়ের আয়োজন প্রায় পাকা করে ফেলেছিলেন স্বজনেরা। সেই কঠিন সময়ে স্বপ্নার পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ান তার মা। মায়ের দৃঢ় সমর্থনে বাবা রাজি হন এবং সব সমালোচনা উপেক্ষা করে স্বপ্নাকে ঢাকায় পাঠান।
ঢাকায় আসার পর স্বপ্নার মনে সবসময় বাবা-মায়ের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার তাগিদ কাজ করত। তবে পড়াশোনার এই দীর্ঘ সফরে তাকে বড় একটি ধাক্কাও খেতে হয়েছিল। এইচএসসির ফল আশানুরূপ না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সে সময় তার বাবা ফোনে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, একটি পরীক্ষার ফল কখনো যোগ্যতা বা পরিচয় নির্ধারণ করতে পারে না। বাবার সেই অনুপ্রেরণামূলক কথাই স্বপ্নার ঘুরে দাঁড়ানোর মূল শক্তি হয়ে ওঠে।
বর্তমানে স্বপ্নার এই সাফল্যে তার পরিবার ও এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তার ভাই এখন নিজের মেয়েকেও স্বপ্নার মতো স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। তবে স্বপ্না শুধু নিজের সফলতায় সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তার নিজ এলাকা সুবর্ণচরের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং বাল্যবিয়ে রোধে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার।
ব্যক্তিগত জীবনেও স্বপ্নার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এক বছর আগে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তার স্বামীও প্রথম আলো ট্রাস্টের একজন ‘অদম্য মেধাবী’ এবং তিনি স্বপ্নার পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে দারুণ মানসিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। সবশেষে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া অন্য অদম্য মেধাবীদের উদ্দেশে স্বপ্না বলেন, বাধা আসবেই, তবে কঠোর পরিশ্রম ও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে রাখলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২