
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে দেশের অর্থনীতির গতিপথ নিয়ে এক অস্বস্তিকর চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারি পর্যায়ে ব্যাংকঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়লেও বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়েছে, যা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯ সালের সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়নের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও, অতীতে এ ধরনের মূল্যায়ন নিয়মিত প্রকাশে ঘাটতি দেখা গেছে। তবে সরকারি প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা না করেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাপ্তাহিক সূচকগুলো থেকে বর্তমান অর্থনীতির ঝুঁকিগুলো স্পষ্ট বোঝা যায়।
বর্তমান সূচকগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোনো সূচকই খুব ভালো অবস্থায় নেই। বরং পতন ঠেকানো গেলেও উত্তরণের কোনো ছাপ এখনো দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণের প্রবৃদ্ধি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৮ জুন সরকারি ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৩০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা তিন মাস পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ১১ শতাংশে। অন্যদিকে, একই সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণ ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমেছে। বেসরকারি খাতের ঋণের এই প্রবৃদ্ধি গত ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সরকারের আয় কম এবং ব্যয় বেড়েই চলায় ব্যাংকব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তবে সরকার বেশি ঋণ নিচ্ছে বলেই বেসরকারি খাত ঋণ পাচ্ছে না—এমনটি নয়। মূলত বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানিসংকটের কারণে বেসরকারি খাত ঋণ গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছে না। উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও, ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী কেবল এটিই বিনিয়োগ না হওয়ার প্রধান কারণ নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফাইন্যান্সের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, অর্থনীতি ভালো না করলে এবং প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা না দেখলে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে উৎসাহিত হন না।
বর্তমানে গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বাড়ছে না, ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। ব্যাংকের ঋণ উৎপাদনশীল বেসরকারি খাতের পরিবর্তে যদি কেবল সরকারি অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়, তবে তা টেকসই প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হবে। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২