দেশের অর্থনীতির আকার বাড়লেও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঞ্চয়ের হার বাড়েনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ‘জাতীয় হিসাব পরিসংখ্যান’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জিডিপির অনুপাতে দেশজ ও জাতীয় সঞ্চয়ের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয়ের পাশাপাশি জিডিপিতে বিনিয়োগের হারও হ্রাস পেয়েছে, যার বিপরীতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভোগ ব্যয়।
বিবিএসের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে জাতীয় সঞ্চয়ের হার ছিল ২৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে জাতীয় সঞ্চয় কমেছে প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সময়ে দেশজ সঞ্চয়ের হার ২৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ থেকে কমে ২১ দশমিক ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্টের পতন। তবে চলতি মূল্যে টাকার অঙ্কে সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়েছে—২০২২-২৩ অর্থবছরের ১৩ লাখ ৪৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ১৬ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, চলতি মূল্যে টাকার অংক বাড়লেও জিডিপির অনুপাতই অর্থনীতির প্রকৃত সঞ্চয় সক্ষমতা পরিমাপের সঠিক নির্দেশক।
সঞ্চয়ের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পেছনে মূলত দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচের চাপ বেড়েছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে ভোক্তাদের সঞ্চয়ের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এছাড়া প্রবাসী আয়ের ধীরগতি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের লোকসানও সঞ্চয়ের হার কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে। আর দেশজ সঞ্চয়ের সঙ্গে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ (রেমিট্যান্স) এবং বিদেশি কোনো খাতের আয় মিলিয়ে হয় জাতীয় সঞ্চয়। মূলত করোনা মহামারির সময় অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছর থেকেই সঞ্চয়ের হার কমতে শুরু করে।
রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক জানান, গত তিন অর্থবছরে জিডিপিতে মোট ভোগ ব্যয়ের হার ৭৪ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৮ দশমিক ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সঞ্চয় কমে গেলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংকুচিত হয়, যা বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করে। করোনার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে দেশজ সঞ্চয়ের হার ছিল ২৭ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয়ের হার ছিল ৩১ দশমিক ৪২ শতাংশ। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ছয় বছর আগে বিনিয়োগের হার জিডিপির ৩১ শতাংশের ওপরে থাকলেও বর্তমানে তা ২৮ শতাংশের নিচে নেমেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির তুলনায় সঞ্চয়ের হার কমে যাওয়ার অর্থ হলো বিনিয়োগের জন্য মূলধন কমে যাওয়া, যা কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে বৈদেশিক বা অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে ছিল। সংকট কাটিয়ে উঠতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ রেখে পালিয়েছেন দুই ব্যক্তি। শুক্রবার…
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিংকে আরও তিন আইনজীবীসহ আটক করেছে পুলিশ।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটির পর মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ৮…
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের মধ্যেও ইসরাইলের অর্থনীতি নানা সূচকে বেশ চাঙা। ২০২৪ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১…
চাঁদপুর সদর উপজেলার পদ্মা-মেঘনা নদী ও বিভিন্ন মাছঘাট এলাকায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৩০ কেজি…
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি দাবি করেছে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সহযোগীরা…
This website uses cookies.