
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় সংকোচন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। সংস্থাটির অভিযোগ, গত এক দশকে ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর ওপর সরকারি ব্যয় কমানোর চাপ চারগুণ বাড়িয়েছে আইএমএফ। এক বিবৃতিতে অক্সফাম সতর্ক করে বলেছে, এই অতিরিক্ত ব্যয় সংকোচনের ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসনের মতো অতিপ্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ কমে যেতে পারে, যা নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
অক্সফামের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইএমএফের ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত বার্ষিক কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যম হার ছিল জিডিপির শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ। তবে ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই হার চারগুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে জিডিপির শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশে। এই মেয়াদে আইএমএফ প্রায় অর্ধেক দেশকে (৫৪টির মধ্যে ২৫টি) তাদের ঋণ কর্মসূচি চলাকালীন জিডিপির ২ শতাংশের বেশি সরকারি ব্যয় কমানোর নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে আগের মেয়াদে এই হার ছিল মাত্র এক-তৃতীয়াংশ (৪২টির মধ্যে ১২টি)।
দাতব্য সংস্থাটি জানায়, সাধারণত নিম্নআয়ের দেশগুলো সামাজিক সুরক্ষায় জিডিপির গড়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ ব্যয় করে এবং শিক্ষা খাতে এই ব্যয় জিডিপির ৪ শতাংশের নিচে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনের পরিবর্তে বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে অক্সফাম। তারা আশঙ্কা করছে, আইএমএফ হয়তো ১৯৮০-এর দশকের সেই কঠোর ‘কাঠামোগত সমন্বয়’ বা স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট কর্মসূচির দিকে ফিরে যাচ্ছে, যেখানে ধাপে ধাপে সংস্কার না করে শুরুতেই এককালীন বড় ধরনের সরকারি ব্যয় কমাতে বাধ্য করা হয়।
আইএমএফের এই নীতির সমালোচনা করে অক্সফামের আন্তর্জাতিক জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা নাবিল আবদো বলেন, ‘শুরুতেই কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ দেওয়া এমন, যেন কোনো দেশকে একবারে পুরো বোতল বিষ খেতে বলা হচ্ছে—যে বিষ অল্প মাত্রাতেও ক্ষতিকর বলে আমরা জানি।’
তবে অক্সফামের এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মুখপাত্র জুলি কোজাক জানিয়েছেন, তাদের প্রতিটি ঋণ কর্মসূচিতেই ‘সামাজিক ব্যয়ের সীমা’ বা ‘সোশ্যাল স্পেন্ডিং ফ্লোর’ অন্তর্ভুক্ত থাকে, যার মূল লক্ষ্য হলো ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক ব্যয় সুরক্ষিত রাখা। এছাড়া কেবল ব্যয় কমানোর ওপর জোর না দিয়ে দেশগুলো কীভাবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব বা কর সংগ্রহ বাড়াতে পারে, সেদিকেও আইএমএফ কাজ করছে বলে তিনি জানান।
আইএমএফের এই বৈস্মিক বিতর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতার জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বর্তমানে আইএমএফের অর্থনৈতিক সংস্কার ও ঋণ সহায়তার আওতায় রয়েছে বাংলাদেশ। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের কাজ চলছে। আইএমএফের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে অপ্রয়োজনীয় মূলধনি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতগুলোকে অগ্রাধিকারমূলক সামাজিক ব্যয়ের আওতায় সুরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালেও বাংলাদেশে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং সীমিত সরকারি অর্থের মধ্যে অগ্রাধিকার সামাজিক ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি আইএমএফের আলোচনায় রয়েছে। জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফর শেষে আইএমএফ জানায়, রাজস্ব আদায় শক্তিশালী করা ও ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে সামাজিক ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সুযোগ তৈরি করা দরকার। সেইসঙ্গে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর সংস্কারের প্রভাব কমাতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তার কথাও বলা হয়।
নিম্ন-আয়ের দেশগুলো সামাজিক সুরক্ষায় জিডিপির গড়ে ০.৮ শতাংশ ব্যয় করে, যেখানে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৪ শতাংশের নিচে থাকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২