দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) কমে যাওয়ায় শিল্পের উৎপাদনে সংকোচন দেখা দিয়েছে। এসব কারণে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন। বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, গত এক দশকে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যা ২০২৬ অর্থবছরে ২২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। চলতি বছরের জুন মাসে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশের অভাব এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধির ফলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এছাড়া ২০২৬ অর্থবছরে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে, যা শিল্পায়নের দুর্বলতা নির্দেশ করে।
বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত হওয়ার পেছনে জ্বালানি সংকটকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, সুশাসনের ঘাটতি, উচ্চ সুদের হার এবং দুর্নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। নীতিসুদ ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হওয়ায় ঋণের ব্যয়ও উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় আরও চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেমিনারে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। পে-স্কেল প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ১০৪ শতাংশ বাড়লেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল একই অনুপাতে বাড়েনি। নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ ব্যয়ের অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি ও শিল্পনীতিকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে শুধু করহার না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারণ ও ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অর্জন করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে এনবিআর ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং জ্বালানিনিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাসহ দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সম্ভাব্য বিপদ বা ঝুঁকির বিষয়ে…
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে জামায়াত অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি জামায়াত…
ইসলাম ধর্মে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, দয়া, ক্ষমা এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।…
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার পেছনে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে…
প্রয়াত সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী…
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শানলিউরফা প্রদেশে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এতে কোনো প্রাণহানি…
This website uses cookies.