
শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলার বা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানো গেলে তা বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের তৈরি পোশাক খাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ রুফটপ সোলারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রায় ১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।
রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দ পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের ৩ হাজার ৩২০টি কারখানার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, যার মধ্যে ৩৫০টি কারখানায় সরাসরি সমীক্ষা চালানো হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের ৮৭৮টি কারখানার বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র তিন শতাংশ বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসছে।
তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সম্ভাবনা প্রায় ২ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে ৩০০ কিলোওয়াট বা তার বেশি সক্ষমতার ২ হাজার ৩০৩টি কারখানায় সোলার প্যানেল বসানোর মাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৩ দশমিক ০৪ টাকা, যা জাতীয় গ্রিডের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
তবে এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদের হারকে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি সুদে বাণিজ্যিক অর্থায়ন হলে প্রকল্পটি ব্যাংকের কাছে বিনিয়োগযোগ্য থাকে না। তাই সবুজ অর্থায়ন ও রেয়াতি ঋণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে পোশাক খাতের প্রায় ৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন বর্গমিটার ছাদ ব্যবহার করে ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখনই প্রায় ৫০০ কারখানা বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত, আর প্রয়োজনীয় সমর্থন পেলে আরও ১ হাজার ৩০০ কারখানা এই খাতে এগিয়ে আসতে পারে।
হা-মীম গ্রুপের পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি বিভাগের প্রধান তনুল চক্রবর্তী জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ২৯ দশমিক ২ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপন করা হয়েছে, যা তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১৫ শতাংশ পূরণ করছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতি এবং বিকেএমইএ-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২