ফখরুল আলম সাজু
২৬ বছরের চাকরি জীবনের ২২ বছর ৬ মাসই ঢাকা মেট্রোপলিটন থানা ও ঢাকা জেলা অফিসে সুবিধা জনক অবস্থায় চাকরি করেছেন, এ সময় তিনি অনিয়ম, দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারকে নিয়মে পরিণত করেছেন সমবায় কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী।
সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, তেজগাঁও, ঢাকা জেলা সদর সমবায় এবং মুন্সিগঞ্জ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে থাকাকালীন ক্ষমতার মদমত্ততায় জড়িয়ে পড়েছেন শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খোলস বদলে যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে নিজের আখের গুছিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সমবায় খাতের বিভিন্ন প্রকল্প, ঋণ বরাদ্দ এবং ভুয়া সমবায় সমিতি নিবন্ধনের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন রেজাউল বারী, তার এই দীর্ঘ কর্মজীবনে গড়ে তুলেছেন নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের পাহাড়, শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক নারী কেলেঙ্কারির গুরুতর অভিযোগ।
ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নারীদের হেনস্তা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন কর্মস্থলে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে সবসময় পার পেয়ে গেছেন তিনি।
বদলি আদেশ বাতিলের জন্য মরিয়া চেষ্টা সম্প্রতি তার এই লাগামহীন দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে ঢাকা থেকে বরিশাল বিভাগে শাস্তি মূলক বদলি করা হয়, তবে ক্ষমতার মোহে অন্ধ রেজাউল বারী ঢাকার রাজকীয় জীবন ও দুর্নীতির আখড়া ছাড়তে নারাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বরিশালে নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে উল্টো বদলি আদেশ বাতিল বা স্থগিত করার জন্য তিনি বর্তমানে মরিয়া হয়ে লবিং চালাচ্ছেন, ঢাকাতেই থেকে যাওয়ার জন্য তিনি রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বর্তমান মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে তদবির করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি
একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন বেপরোয়া আচরণ, সীমাহীন দুর্নীতি এবং নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় সমবায় অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি:
★ অবিলম্বে তার এই বদলি আদেশ কার্যকর করে তাকে বরিশাল পাঠাতে হবে।
★গত ২৬ বছরে অবৈধভাবে অর্জিত শত কোটি টাকার সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
★ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নৈতিক স্খলনের দায়ে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে বছরের পর বছর ধরে চলা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়ে এখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।
সরকারের দুর্নীতি বিরোধী শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতির প্রকৃত বাস্তবায়ন দেখতে এই "দুর্নীতির চাদর" উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবি।
পর্ব-১
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক হোসেন মঞ্জিল, ৬/১, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : হোসেন মঞ্জিল, ৬/১, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, বাংলাদেশ। সাব-হেড অফিস: টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২