
নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্থায়ী পুনর্বাসন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবিতে লংমার্চ করেছেন স্থানীয় ক্যাম্পগুলোতে বসবাসরত উর্দুভাষী অবাঙ্গালিরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে শহরের বাঁশবাড়ি এলাকার এসপিজিআরসি কার্যালয় থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। পরে আন্দোলনকারীরা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বাংলাদেশে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের সংগঠন 'স্ট্যান্ডেড পিপলস জেনারেল রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি' (এসপিজিআরসি)-র কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়। সৈয়দপুর শহরের ২২টি ক্যাম্পের কয়েকশ বাসিন্দা এতে অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে স্থায়ী পুনর্বাসন ও মৌলিক অধিকারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। নেতারা জানান, শুধু নীলফামারী নয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় একই দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকে লংমার্চ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
এসপিজিআরসির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—উচ্ছেদ হওয়া ক্যাম্পবাসীদের দ্রুত স্থায়ী পুনর্বাসন করা, পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্যাম্প উচ্ছেদ না করা, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে ক্যাম্পবাসীদের মৌলিক ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করা এবং ক্যাম্পগুলোতে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
কর্মসূচিতে সৈয়দপুর এসপিজিআরসির নেতা মোবারক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়নি। নাগরিক হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তা থেকে আমরা বঞ্চিত। এখনও ৪ বাই ৪ ফুটের একটি ছোট কক্ষে ১০ থেকে ১২ জনকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। আমরা কারও করুণা চাই না, আমাদের ন্যায্য মৌলিক অধিকার চাই।
সংগঠনের অন্য তিন নেতা ওয়াসিম, নাসিম ও মেরাজ অভিযোগ করেন, কাগজে-কলমে তারা নাগরিক স্বীকৃতি পেলেও বাস্তবে সাধারণ নাগরিকদের মতো কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার পাগল ও কুকুরও ভালো আছে, কিন্তু আমরা ভালো নেই। আমাদের শুধু নামেই নাগরিক করে রাখা হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক ক্যাম্প উচ্ছেদের অভিযোগ তুলে তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জে স্থায়ী পুনর্বাসন ছাড়াই ২৫০টি পরিবারের একটি ক্যাম্প উচ্ছেদ করা হয়েছে, যার ফলে উচ্ছেদ হওয়া মানুষগুলো এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিদ্যুৎ সুবিধার বিষয়ে আন্দোলনকারী নেতারা স্পষ্ট করে জানান, তারা কোনো বিনামূল্যে বিদ্যুৎ চান না। দেশের অন্য সাধারণ নাগরিকদের মতো তারাও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে প্রস্তুত। তবে বিল দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও তাদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে সকাল থেকেই সৈয়দপুরের ২২টি ক্যাম্পের মানুষ বাঁশবাড়ি এলাকার এসপিজিআরসি কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন এবং সেখান থেকে সুশৃঙ্খলভাবে লংমার্চ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে রওনা হন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২