
সুন্দরবন উপকূলীয় খুলনার কয়রা উপজেলায় পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘ ৫ বছরেও শেষ হয়নি কেওড়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের নির্মাণকাজ। প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় না হওয়ায় থমকে গেছে এই উন্নয়ন প্রকল্প, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
উপজেলার ৬ নং কয়রা গ্রামের শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ঘেঁষে ২০ একর জায়গাজুড়ে কেওড়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। নদীর পূর্ব পাশেই সুন্দরবন। গোলপাতাসহ ম্যানগ্রোভ বনের নানা প্রজাতির গাছে ঘেরা এই এলাকাটি প্রথম দেখায় সুন্দরবনেরই অংশ মনে হয়। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য উপভোগ করার জন্য একটি চারতলা ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময়ে কেবল টাওয়ারের প্রথম তলার চারটি পিলার ও সিঁড়ির একটিমাত্র ধাপ তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কয়রা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ‘কয়রা সদর ইউনিয়নে কেওড়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ১৯১ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে সৈয়দ জিয়াউল হক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৬ লাখ ২২ হাজার ১৫৯ টাকায় এই কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট কাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ২৯ মে’র মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও অর্থ ছাড়ের জটিলতায় কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এর আগে, ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর ট্যুরিজম বোর্ড গোলখালিতে একটি পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে গেলে বন বিভাগের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ কয়রা সদর ইউনিয়নের কেওড়াকাটায় পর্যটনকেন্দ্রটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন জানান, পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোর অভাবে কেওড়াকাটা এখনো প্রত্যাশিতভাবে গড়ে ওঠেনি। ওয়াচ টাওয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এভাবে দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে এলাকার পর্যটন খাতের উন্নয়ন ব্যাহত হবে। কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, যথাসময়ে অর্থ ছাড় না হওয়ায় ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন। তিনি দ্রুত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করে গুণগত মান বজায় রেখে কাজটি সম্পন্ন করার দাবি জানান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ জিয়াউল হক জানান, পর্যটনকেন্দ্রটি নির্মাণে ইতিমধ্যে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অর্থ ছাড়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় বর্তমানে কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অর্থ বরাদ্দ পেলেই পুনরায় কাজ শুরু করবেন এবং এটি শেষ হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ-আল বাকী জানান, অর্থ ছাড়ের জন্য জেলা কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলেই কাজ আবার শুরু হবে।
উল্লেখ্য, সুন্দরবন ছাড়াও এই উপজেলায় পর্যটনের জন্য মসজিদকুড় মসজিদ, রাজা প্রতাপাদিত্যের বাড়ি, খালে খাঁর ৩৮ বিঘা দিঘি এবং আমাদী বুডো খাঁ-ফতে খাঁর দিঘিসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২