
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শাহ আলম রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে বাসাইল থানায় ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে প্রধান আসামি এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়রা রাতের আঁধারে ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখে বাধা দিলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন পরে গোপনে কাজটি শেষ করে। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান জানান, ঠিকাদাররা তাদের অনুপস্থিতিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অনিয়ম করেছেন, যা এলজিইডি এবং এলাকাবাসীর জানমালের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শক্রমে এবং এলজিইডি ও স্থানীয় জনগণের মান-সম্মান রক্ষার্থে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঠিকাদারদের এসব অনিয়মের কারণে এখানে একটি বেহাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকালে এলজিইডির ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক সেতুটি পরিদর্শন করেন। একইসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী একদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ রেকটিফিকেশন ও গাফিলতির জন্য কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। ঢাকা থেকে আসা প্রতিনিধিদল ল্যাব টেস্টসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে এবং সবকিছু পর্যালোচনা করে শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২