প্রধান আমের মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কানসাট আম বাজারে কর্মব্যস্ততা কমেনি। সাধারণত মে-জুন মাসে বিদায় নেওয়া জিআই স্বীকৃত খিরসাপাত বা হিমসাগর আম এখন আগস্টের শেষেও ঝুলছে গাছে, যা বাজারে এনেছে নতুন সম্ভাবনা। নাবি ও বারোমাসি জাতের আমের সরবরাহ অব্যাহত থাকায় দেশের বৃহত্তম এই আম বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ আম কেনাবেচা হচ্ছে।
বর্তমানে কানসাট বাজারে আশ্বিনা, বারি-৪, বারি-৮, গৌড়মতি, খিরসাপাত, কাটিমন ও ব্যানানা ম্যাঙ্গোর মতো নাবি ও বারোমাসি জাতের আমের বেচাকেনা চলছে জোরকদমে। বাজারে ভালো দাম পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন চাষিরা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আশ্বিনা আম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বারি-৪ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, গৌড়মতি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, কাটিমন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ব্যানানা ম্যাঙ্গো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে মণ হিসেবে কিনলে দাম কিছুটা কম পড়ছে।
এবারের মৌসুমের সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে অসময়ে খিরসাপাত বা হিমসাগর আমের উৎপাদন। শিবগঞ্জ উপজেলার আড়গাড়া গ্রামের আমচাষি গোলাম মোস্তফা জানান, আগে শুধু মৌসুমি আম চাষ করে খুব একটা লাভ করতে পারতেন না। পরে তিনি কাটিমন ও গৌড়মতি আমের চাষ শুরু করেন। একপর্যায়ে মৌসুমি খিরসাপাত গাছের জাত পরিবর্তনের জন্য তিনি কাটিমন আমের ডাল গ্রাফটিং বা কলম করেন। গ্রাফটিংয়ের পর দেখা যায়, কলম করা ডালে কাটিমন আম এলেও পুরোনো গাছের অংশে নতুন করে মুকুল আসে। সেই মুকুলের সঠিক পরিচর্যা করায় অসময়ে খিরসাপাত আম ধরেছে। এখন এই আম তিনি প্রতি মণ প্রায় ২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন।
শিবগঞ্জ ম্যাঙ্গো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম জানান, ভরা মৌসুমে খিরসাপাত আম অনেক সময় মাত্র ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়। কিন্তু এখন অসময়ে সেই একই আমের দাম কয়েকগুণ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা থেকে এই অসময়ের খিরসাপাত কিনতে আসা ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের বাইরে খিরসাপাত উৎপাদনের এই পরীক্ষামূলক সাফল্য আম চাষে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, খিরসাপাতের দেশি-বিদেশি প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে একসঙ্গে অনেক আম বাজারে আসায় চাষিরা ভালো দাম পান না। অসময়ে খিরসাপাত উৎপাদনের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এটি নিয়ে তারা সামনে গবেষণা ও কাজ করবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন। মৌসুম শেষের দিকে হলেও বাজারে এখনো নাবি জাতের আমের সরবরাহ ভালো রয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কৃষি উদ্যোক্তা মুঞ্জের আলম বলেন, ক্ষীরসাপাতি বা খিরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি ও আশ্বিনা হচ্ছে জেলার জিআই স্বীকৃত পণ্য। এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা সরাসরি আমের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে আম প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা, গবেষণা জোরদার করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আম গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে টানা ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর পাবনার নাজিরগঞ্জ থেকে রাজবাড়ীর…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্ট ‘পার্টনারস ফর মাল্টিলেটারেলিজম’ (পিফোরএম) সামিটে অংশ…
মঙ্গলে অবতরণের ১৪ বছর পূর্তি ও ৫০০০ সল অতিক্রমের পর কিউরিওসিটি রোভার এখন ভালে গ্রান্দে…
লালমনিরহাট জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন গুণেরও বেশি বন্দি অবস্থান করছেন। ১৯০ জনের ধারণক্ষমতার এই…
ইরানের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের ওপর বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে সর্বাত্মক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। এর ফলে…
সম্প্রতি পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীটি হিন্দু পরিবারের মেয়েদের সম্পত্তি প্রাপ্তি এবং মা-বাবার শেষ…
This website uses cookies.