Header Premium (728×90)

Categories: সারাদেশ

সিরাজগঞ্জে ড্রাগন চাষে কৃষকের সাফল্য, বাড়ছে পতিত জমিতে আবাদ

সিরাজগঞ্জে এবার ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় জেলার কৃষকেরা বেশ সন্তুষ্ট। লাভজনক এই ফল চাষের ফলে অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। এখন অনাবাদি ও পতিত জমিতেও গড়ে উঠছে ড্রাগন ফলের বাগান, যা কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি অব্যবহৃত জমিকে উৎপাদনের আওতায় নিয়ে আসছে।

উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক বছরে ড্রাগন চাষের প্রসার ঘটেছে। এমনকি চরাঞ্চলেও নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৮ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ নয়টি উপজেলায় চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও কৃষকেরা তার চেয়ে বেশি জমিতে এই ফলের চাষ করেছেন।

ড্রাগন চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়, চারা রোপণের ছয় মাস পর গাছে ফুল আসে এবং তা থেকে ফল পাওয়া যায়। একবার কাঠামো তৈরি করলে ছয় থেকে সাত বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। তুলনামূলক কম শ্রমে দীর্ঘমেয়াদী ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ড্রাগন চাষের জন্য উঁচু, দোআঁশ ও বালুমিশ্রিত জমি সবচেয়ে উপযোগী। জেলায় বাউ-১, বাউ-২ ও বাউ-৩ জাতের ড্রাগন চাষ হলেও বাউ-৩ জাতের আবাদ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।

সদর উপজেলার দইভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী ব্রহ্মখোলা গ্রামের কৃষক ও উদ্যোক্তা এস এম ইদ্রিস আলী ড্রাগন চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তিনি আড়াই বিঘা জমিতে বাউ-৩ জাতের বাগান করেছেন। ইদ্রিস আলী জানান, ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন উচ্চফলনশীল ফল চাষ করে আসছেন, তবে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো ড্রাগন ফলের বাগান করেন। শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি চাষের কৌশল আয়ত্ত করেন। গত বছর তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি ড্রাগন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন। চলতি মৌসুমে দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন জানান, ড্রাগন চাষের মাধ্যমে অনেক কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, ড্রাগন একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক ফল। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। চাষের পরিধি আরও বাড়ানো গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি অনাবাদি জমিও চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

শিবগঞ্জে বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচলেন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, পাশে ইউএনও

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সহায়তা চেয়েছেন…

30 minutes ago

‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে কিছু হবে না’ মন্তব্য করা ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।…

58 minutes ago

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য পোর্টালে এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশ, তীব্র উদ্বেগ

গত জুনে ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার সরকারি একটি স্বাস্থ্য ডেটা পোর্টালে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে…

1 hour ago

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ নতুন রোগী

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন…

2 hours ago

এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর

এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান।…

2 hours ago

ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে হাজিরা ৯ অক্টোবর

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর…

3 hours ago

This website uses cookies.