
রানওয়ে সম্প্রসারণ, আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা স্থাপন এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন—কাগজে-কলমে বরিশাল বিমানবন্দরকে ঘিরে উন্নয়নের পরিকল্পনা কম নয়। অথচ বাস্তবে এই আধুনিকায়নের পথে এগোলেও আকাশপথে নিয়মিত যাত্রী মিলছে না। বাবুগঞ্জের রহমতপুর এলাকায় অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি ১৯৯০-৯১ সালে নির্মাণ শুরু হয়ে ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে এর রানওয়ে ৬ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ১০০ ফুট প্রশস্ত। ভবিষ্যতে রানওয়ে ৮ হাজার ৫০০ ফুটে সম্প্রসারণের পাশাপাশি এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং (এজিএল), আইএলএস, ডিভিওআর, ডিএমই ও পিএপিআই লাইট স্থাপন এবং এপ্রোন সম্প্রসারণের মতো একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহে মাত্র তিন দিন—বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রবিবার ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এই তিন দিনের বাইরে রাজধানীর সঙ্গে আকাশপথে নিয়মিত যোগাযোগ নেই। ফলে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের অনেক সময় সড়ক বা নৌপথ বেছে নিতে হচ্ছে। যদিও পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়েছে, তবুও সময়ের হিসাবে আকাশপথের বিকল্প নেই। বর্তমানে ৭৪ আসনের ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজে প্রতিটি ফ্লাইটে গড়ে মাত্র ২০ থেকে ২২ জন যাত্রী ভ্রমণ করছেন। যাত্রীস্বল্পতায় এয়ারলাইন্সগুলো পরিচালন ব্যয় তুলতে হিমশিম খাচ্ছে, ফলে ফ্লাইট বাড়ানোর বাণিজ্যিক আগ্রহও তৈরি হচ্ছে না।
একসময় এ রুটে ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ারের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলো নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করলেও পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কমে যাওয়ায় তারা সরে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া প্রায় ৪ হাজার ৭৫০ টাকা পর্যন্ত। যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মতে, নিয়মিত ফ্লাইট ও যাত্রীবান্ধব ভাড়া নিশ্চিত করা গেলে আকাশপথে যাত্রী ফেরানো সম্ভব। ব্যবসায়ী মো. আতিকুর রহমান জানান, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নিয়মিত ঢাকায় যেতে হয়, কিন্তু ফ্লাইটের সংখ্যা কম থাকায় আকাশপথের সুযোগ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায় জানিয়েছেন, আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। তবে নিরাপত্তা বিভাগের সুপারভাইজার মনমথো সরকার জানিয়েছেন, সীমানাপ্রাচীরের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি স্থানে বাইরে থেকে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে, যা বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া রানওয়ের গ্লাইডপাথ নির্দেশনায় ব্যবহৃত পিএপিআই লাইটের কিছু অংশ নষ্ট রয়েছে, যা নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তনের কথা রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের মতে, জরুরি চিকিৎসা সেবা ও বিনিয়োগ ধরে রাখতে আকাশপথ সচল রাখা জরুরি। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স জানান, জটিল রোগীদের জন্য বিমানই একমাত্র দ্রুতগামী ভরসা। বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন জানিয়েছেন, ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরটিকে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের রূপরেখা নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২