
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষে ছাগল ঢোকাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে মুঠোফোনে হুমকি ও গালাগাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম লিটন শেখ, যিনি গুয়ারেখা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের বাটনাতলা ইএসপি ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নির্মল সুতার জানান, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ কয়েকটি ছাগল শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে মলমূত্র ত্যাগ করে। এতে ক্লাসের পরিবেশ নষ্ট হলে শিক্ষার্থীরা ছাগলগুলোকে বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য তিনি বিএনপির স্থানীয় নেতাদের জানান এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে ওই দিন রাতেই লিটন শেখ তাকে মুঠোফোনে কল করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লিটন শেখ। তিনি জানান, বিদ্যালয়টি তার বাড়ির পাশে হওয়ায় অসাবধানতাবশত তার পাঁচটি ছাগল ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাগলগুলোকে তাড়িয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটি খোয়াড়ে নিয়ে আটকে রাখে। পরে তিনি সেখান থেকে ছাগলগুলো ছাড়িয়ে আনেন। লিটনের দাবি, স্কুল চলাকালে দপ্তরির মাধ্যমে ছাগলগুলো বের করে দেওয়া যেত। তা না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এত দূরে পাঠানোয় তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে জানাতে গেলে তিনি উল্টো তাকে শাসিয়েছেন বলে দাবি করেন এই নেতা।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি শান্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। গুয়ারেখা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান জানান, স্কুলে ছাগল ঢোকা নিয়ে একটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। সবার বক্তব্য শুনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কাউকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল আলম জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি পাননি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২