কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন ও আশপাশের রেলওয়ে কলোনিগুলোতে মিটার ছাড়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান এবং এর বিপরীতে মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা রেলওয়ে বৈদ্যুতিক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী কার্য প্রকৌশলীকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ভৈরব জংশন এবং আশপাশের বিভিন্ন রেলওয়ে কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে মিটার ছাড়াই শত শত বাড়ি ও দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে রেলওয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অননুমোদিত এসব সংযোগের কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ভৈরব-কিশোরগঞ্জ, ভৈরব-নরসিংদীর খানাবাড়ি এবং ভৈরব-আশুগঞ্জ রেলপথসংলগ্ন এলাকায় রেলের কয়েকশ আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে। এসব এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক) মোহাম্মদ আল মামুনের বিরুদ্ধে অবৈধ সংযোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভৈরব রেলওয়ের নিজস্ব কোয়ার্টার, ফেরিঘাট কলোনি, চণ্ডীবের কলোনি ও সুইপার কলোনিতে মিটার ছাড়াই ফ্রিজ, টেলিভিশন, হিটার এবং ফ্যান-বাতিসহ উচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে এসব সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ২০১৮ সাল থেকে ভৈরবে কর্মরত মোহাম্মদ আল মামুনকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে কয়েক মাসের জন্য তিনি আখাউড়ায় দায়িত্ব পালনকালেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পুনরায় ভৈরবে যোগ দেওয়ার পর তাঁর এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ওই সিন্ডিকেটের লাইনম্যান মনিরের মাধ্যমে প্রতিটি মিটারবিহীন সংযোগ থেকে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এভাবে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। এছাড়া প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল মামুনের বিরুদ্ধে অধীনস্থ কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিবাদে কয়েকজন কর্মচারী তাঁর অধীনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন। এসব বিষয়ে মোহাম্মদ আল মামুনের মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই কমিটি মিটারবিহীন সংযোগের সংখ্যা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন, সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী শাকের আহমেদ জানান, রেলওয়ের বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগের বিষয়ে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি যেকোনো সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী…
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বিশ্রামরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসানকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় কিশোর চালক আজান…
নতুন ধারার রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক কৌশলের…
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ২৬তম…
সুনামগঞ্জের শাল্লায় দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিবাদে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও…
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পাঠানপাড়ায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জমিতে দেয়াল তুলে গোরস্থান তৈরির চেষ্টা করা…
This website uses cookies.