চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন ও বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের নিয়মিত কারিগরি সহায়তায় জেলায় এবার পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ২ হাজার ৪০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট ২ হাজার ৭২৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৮৭ হেক্টর বেশি।
বাজারে পাটের দর গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে গত বছর এই দাম ছিল ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। সদর উপজেলার রানিহাটি ইউনিয়নের কৃষক আকবর আলী জানান, দুই বিঘা জমিতে প্রায় ২৮ মণ পাট পেয়েছেন তিনি। প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি। এছাড়া শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ রানা তিন বিঘা জমিতে দেশি ও তোষা জাতের পাট চাষ করে এক বিঘা থেকে ১৩ মণ পাট পেয়েছেন, যা ৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে।
পাট চাষের এই মৌসুমে গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ের পাশে দল বেঁধে নারীদের পাটের আঁশ ছাড়াতে দেখা যাচ্ছে। অনেক নারী নগদ মজুরির পরিবর্তে পাটখড়ি নিয়ে থাকেন। তারা জাগ দেওয়া পাটগাছ থেকে আঁশ আলাদা করে দেওয়ার বিনিময়ে পাটখড়ি সংগ্রহ করেন এবং পরে তা স্থানীয় পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন।
শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের আনোয়ারা বেগম জানান, তিনি প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ আঁটি পাট ছাড়িয়ে প্রায় দুই মণ পাটখড়ি পান। বাজারে প্রতি মণ পাটখড়ি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি দিনে প্রায় ১ হাজার টাকা আয় করছেন। পাট মৌসুমে বাড়তি কাজের সুযোগ থাকায় তিনি প্রতিবছর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বাড়তি আয় করতে পারেন বলে জানান। এছাড়া পাঁকা ইউনিয়নের পাটচাষি আইনাল হক জানান, তাঁর জমিতে ১০ থেকে ১২ জন নারী কাজ করছেন, যাদের নগদ মজুরি দিতে হচ্ছে না; বিনিময়ে তারা পাটখড়ি নিয়ে যাচ্ছেন, যা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক। উৎপাদন খরচ কমাতে ও চাষাবাদ আরও লাভজনক করতে কৃষকরা সরকারি প্রণোদনা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাটের আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে অনেক নারী সরাসরি টাকা নেন না। জাগ দেওয়া পাটগাছ থেকে আঁশ আলাদা করে দেওয়ার পর পাটখড়ি নিয়ে যান তারা। পরে বাড়িতে শুকিয়ে এসব পাটখড়ি স্থানীয় হাট বা পাইকারের কাছে বিক্রি করেন। এতে একজন নারী দিনে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত সমমূল্যের পাটখড়ি আয় করতে পারেন।
সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮২টি ফ্লাইট বাতিল করা…
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন…
জামালপুরের বকশীগঞ্জে নিজ বসতঘরের চালের সাথে ফাঁস লাগানো অবস্থায় আলাল মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের…
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কৃষক ও কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও…
ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোডে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানাকে এক মাসের কারাদণ্ড…
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির চাহিদা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ৬০০ চিংড়িচাষিকে নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।…
This website uses cookies.