Header Premium (728×90)

Categories: সারাদেশ

রংপুরে ৪ খুন: আসামিদের পক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা

রংপুরে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে কোনো আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে তদন্তে ১৯টি অসংগতি চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডকে একটি নৃশংস ও নিকৃষ্টতম ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় আইনজীবী সমিতি। ইতোমধ্যে কয়েকজন সরকারি আইনজীবী রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত কিছু গহনা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের তৎপরতা ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজব ও রাজনৈতিক প্রচারের চেষ্টা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো থেকেও সবাইকে বিরত থাকতে হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব, অ্যাডভোকেট কাওছার আলীসহ সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, একই দিন দুপুরে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। সেখানে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগ এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। নাগরিক কমিটির মতে, হত্যাকাণ্ডটি ঠান্ডা মাথায় অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধভাবে ঘটানো হয়েছে। পুলিশের তদন্ত ও প্রশাসনের বক্তব্যের মধ্যে বেশ কিছু যৌক্তিক অসংগতি রয়েছে দাবি করে পলাশ কান্তি নাগ প্রশ্ন তোলেন, ইয়াবা সেবনের পর হিতাহিতজ্ঞানশূন্য অবস্থায় দুই তরুণের পক্ষে এত বড় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো কীভাবে সম্ভব? সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের মোট ১৯টি অসংগতি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। নাগরিক কমিটির দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, আসল অপরাধীদের শনাক্ত এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে তারা রংপুরের নবাগত পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবেন বলেও জানান।

হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারটির বিষয়ে জানা যায়, রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। অবসর নেওয়ার পর তিনি homeopathy চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন। প্রথমে নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকলেও ২০১০ সালে মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। নিচতলার কাজ শেষ না হলেও গত প্রায় তিন বছর ধরে ওই বাড়ির দোতলায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। গত ২২ আগস্ট রাতে ওই বাড়ি থেকেই গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরদিন নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ ওই এলাকা থেকেই মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই তরুণ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তাদের দেওয়া তথ্যে কিছু লুণ্ঠিত গহনা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশি তদন্তের দাবি এবং নাগরিক কমিটির ১৯টি অসংগতির অভিযোগের কারণে চার খুনের প্রকৃত রহস্য ও নেপথ্যের কারণ জানতে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয় মানুষ ও নিহতের স্বজনরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

মতলব উত্তরে কলেজ শিক্ষকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে হাসনেহেনা আক্তার নামে তিন সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে তার…

33 minutes ago

কলকাতার পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নারী ও শিশুসহ নিহত ১৮

কলকাতার মানিকতলায় চোরবাগান পূজামণ্ডপে বৃষ্টির সময় হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার সময় পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের…

38 minutes ago

মাছরাঙা টিভির দুঃখ প্রকাশে ক্ষুব্ধ পরীমণি, নিজেকেই দায়ী করলেন অপরাধী হিসেবে

একটি ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতে মাছরাঙা টেলিভিশনের দুঃখ প্রকাশে সন্তুষ্ট নন অভিনেত্রী পরীমণি। তিনি নিজের মানসিক…

52 minutes ago

নেতানিয়াহুকে হটাতে ইসরায়েলের পাঁচ বিরোধী নেতার অনাক্রমণ চুক্তি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পাঁচ বিরোধী নেতা একটি অনাক্রমণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।…

54 minutes ago

২৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চাপে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।…

57 minutes ago

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা

শনিবার সকালে আকস্মিক রাজধানী পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাড়ে চার ঘণ্টায় তিনি ১৩টি…

1 hour ago

This website uses cookies.