
একসময় গ্রামীণ বাজারগুলোতে ডেপের নাড়ু, শালুক এবং পানিফলের ব্যাপক বিক্রি হতো। সাধারণ মানুষের কাছে এসবের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে হাওরাঞ্চলের বাজারগুলোতে এই জলজ উদ্ভিদগুলো আর আগের মতো দেখা যায় না। অনেক এলাকায় শাপলার অস্তিত্ব থাকলেও সব জায়গায় আগের মতো শাপলা চোখে পড়ে না।
আজমিরীগঞ্জের শীবপাশার বিভিন্ন হাওরে একসময় কেওড়ালী, শাপলা ও শালুকের ছড়াছড়ি ছিল, যা এখন কেবলই স্মৃতি। বিশেষ করে কাকাইলছেও ইউনিয়নের কুল্লার চর এবং কমলগঞ্জের বিলে প্রচুর পানিফল ও শিংরা পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে পলি জমে বিল ও ঝিলগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এসব জলজ উদ্ভিদ হারিয়ে গেছে। মাহতাবপুরের বিভিন্ন জলাশয়ে আগে কেওড়ালী পাওয়া গেলেও এখন একটি মাত্র বিল ছাড়া বাকি সব বিলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।
আজমিরীগঞ্জের পাহাড়পুর ও জলসুখার হাওরে কেওড়ালী ও শাপলা প্রচুর পরিমাণে দেখা যেত। এছাড়া জোড়বিল, ঢাকুবিল এবং আইড়াভাঙা বিলে হুগলা জাতীয় জলজ ঘাসের বিচরণভূমি ছিল। সেই হুগলার ফাঁকে ফাঁকে ডাহুক, কুঁড়াপাখি, বালিহাস ও সাদা বকের আনাগোনা ছিল নিত্যদিনের দৃশ্য।
কাকাইলছেও ইউনিয়নের কৃপাল নগর গ্রামের বাসিন্দা আমিন আনসারী জানান, আগে তারা বিলঝিলে কেওড়ালী ও শাপলা কুড়াতে যেতেন, কিন্তু এখন বয়স ও উদ্ভিদ—কোনোটিরই আর দেখা নেই। বাপার হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি ও ইত্তেফাকের প্রতিনিধি মনসুর আহমেদ ইকবাল জানান, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, অপরিকল্পিতভাবে বিল-ঝিল ভরাট, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকার দাপটে হাওরাঞ্চলে জলজ উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে। তিনি স্মরণ করেন, একসময় হবিগঞ্জ থেকে নৌকাযোগে বানিয়াচংয়ে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে শাপলা-শালুক ঠেলে তাদের যাতায়াত করতে হতো।
মনসুর আহমেদ ইকবাল আরও বলেন, নবিগঞ্জ, লাখাই, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জে অসংখ্য পরিচিত ও অপরিচিত জলজ উদ্ভিদের উৎস ছিল, যা আজ প্রায় অস্তিত্বহীন। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জাদুঘরে রেখে এই উদ্ভিদগুলো দেখাতে হবে। তার মতে, জলজ উদ্ভিদ শূন্য হওয়ায় মাছের আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস ধ্বংস হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ ও জনগণের সচেতনতা ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে এসব উদ্ভিদ দেখার জন্য চিড়িয়াখানায় যেতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২