
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভুল চিকিৎসায় দুই নবজাতকের মৃত্যুর ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় এবং বক্তব্য ভিডিও করার চেষ্টা করায় এক সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ফরিদা উপজেলার গোবিন্দাসী মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা। ভুক্তভোগী সাংবাদিক কোরবান আলী তালুকদার ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং ‘বাংলাদেশ বুলেটিন’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে গোবিন্দাসী মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া ও গোবিন্দাসী এলাকার দুই প্রসূতি নারী ওই কেন্দ্রে সন্তান প্রসব করাতে যান। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট পরিদর্শিকা ফরিদার ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এর কয়েক মাস আগেও একইভাবে তার অধীনে প্রসবের সময় আরও এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এছাড়া সরকারি এই চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রসব করানোর নামে অর্থ আদায়, চিকিৎসা বাণিজ্য এবং সরকারি ওষুধ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সাংবাদিক কোরবান আলী তালুকদার অভিযুক্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শিকার বক্তব্য নিতে যান। তিনি বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করতে গেলে ফরিদা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি সাংবাদিকের মুমূর্ষু মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার পাশাপাশি পরবর্তীতে তার বাড়িতে গিয়ে হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন ওই স্বাস্থ্যকর্মী।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক কোরবান আলী তালুকদার বলেন, ফরিদা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব করানোর নামে অবাধে চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দায়িত্বে পরপর দুটি নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার কারণ জানতে চেয়ে ভিডিও করতে গেলে তিনি আমার ফোন কেড়ে নিয়ে ফেলে দেন এবং বাড়িতে এসে আমার হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন।
এদিকে নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর ঘটনার পর পরিদর্শিকা ফরিদা তাদের বাড়িতে গিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। এছাড়া সন্তান প্রসব করানোর সময় তিনি তাদের কাছ থেকে টাকাও নিয়েছেন বলে স্বজনরা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা ফরিদা দাবি করেন, নবজাতক দুটির মৃত্যুর পেছনে তার কোনো দায় নেই। গর্ভেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) বেলায়েত হোসেন জানান, সাংবাদিককে হুমকির বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করবেন। অন্যদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাহমিনা তাবাসসুম বলেন, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন, তবে দাপ্তরিকভাবে তাকে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২