
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ডিসি রোড নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় ওই ইউনিয়নে ভবিষ্যতে আর কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা রাস্তার নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হকের সঙ্গে দেখা করেন। তারা তদন্তের মাধ্যমে সড়কের নিম্নমানের কাজ অপসারণ করে পুনরায় নির্মাণ এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে প্রকৌশলী ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আপনারা ছবি তুলে পোস্ট করতে থাকেন, এই ইউনিয়নে আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না।’
আম্পান প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নিঝুমদ্বীপ ডিসি রোডের সাড়ে তিন কিলোমিটার উন্নয়নকাজ শুরু হয়। এম আলী কর্পোরেশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়, যা পরে সাব-কন্ট্রাক্টে নেন আবদুল হাই আরাম। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে শুরু থেকেই ইট, বালু ও রডের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের ওপরের স্তর উঠে যাচ্ছে এবং কিছু অংশ ধসে পড়ছে। নিম্নমানের কাজের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সিমেন্টের ঘোলা ছিটিয়ে তা ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
এ বিষয়ে নিঝুমদ্বীপের বাসিন্দা হাফেজ মাওলানা ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, তিনি দাপ্তরিক কাজে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি উত্থাপন করলে প্রকৌশলী অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বরাদ্দ বন্ধের হুমকি দেন। তিনি বিষয়টিকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অপর বাসিন্দা হাসানুল বান্না ফুয়াদ বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা এমনিতেই দুর্ভোগপূর্ণ, তার ওপর নিম্নমানের কাজের কারণে সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে। সরকারি কাজের অনিয়মের ছবি প্রকাশ করা যেকোনো নাগরিকের অধিকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আম্পান প্রকল্পের আওতায় নিঝুমদ্বীপে ডিসি রোডের কাজ চলমান আছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে কিছু অভিযোগ ও ভিডিও এসেছে। এগুলো আমরা অবগত হয়েছি। ঠিকাদারকে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, সরকারের নীতিমালার বাইরে কাজ করলে কাজ বন্ধ থাকবে। সেই অনুযায়ী বর্তমানে কাজটি বন্ধ রয়েছে।’ বরাদ্দ না দেওয়ার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে তিনি কেবল বিব্রত হওয়ার কথা বলেছেন, কোনো বরাদ্দ বন্ধের হুমকি দেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২