

বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি জমি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানায় দিয়ে খাজনা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে হিজলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ২২ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন এবং সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন। তদন্তে আরও দেখা যায়, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে তিনি প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করেন। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই আরও ২২২ একর খাসজমি অবমুক্ত করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭টির মাধ্যমেই সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এছাড়া রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির মতো অনিয়মের প্রমাণও পাওয়া গেছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় মনে করেছে, এমন কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে রাখা সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী।
হিজলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল জানান, সোমবার উপজেলা ভূমি অফিসে বরখাস্তের আদেশ পৌঁছানোর পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, এই আদেশের আগেই অধিকাংশ বেদখল হওয়া খাসজমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট কোনো জমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো জমি পাওয়া গেলে তা দ্রুত উদ্ধার করা হবে। একই সঙ্গে বেদখল হওয়া সরকারি সম্পত্তি দ্রুত ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২