
বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলায় বগুড়া সেনানিবাস এর বি-ব্লক মাঠে ক্ষূদ্র ও কুটির শিল্প মেলায় প্রবেশ টিকিটের নামে লটারি জুয়া জমে উঠেছে। অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অফিসার কল্যাণ সমিতি (আরএওডাব্লিউএ) গত ৪ফেব্রুয়ারি এই মেলা শুরু করে।
শাজাহানপুর উপজেলা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এই টিকিট বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সাধারণ মানুষ এই লটারি টিকিট কিনে ফতুর হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিনের টাকা দিয়ে লটারি কিনছে। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক সিএনজি চালিত থ্রি হুইলার এবং ইজিবাইক এ প্রত্যান্ত গ্রামে গিয়ে আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রলোভন দিয়ে প্রবেশ টিকিটের নামে লটারি টিকিট বিক্রি করছেন।
লটারি ড্র এর চিত্র সরাসরি প্রচার করা হচ্ছে স্থানীয় ডিস এর চ্যানেল এবং ইউটিউব এ। তবে লটারি বন্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। মেলা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ এবং লটারি জুয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ।
ফুলকোট গ্রামের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দিন সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিলনকে জানান, পড়া লেখার পাশাপাশি আমি অন্যের জমিতে কাজ করে টাকা উপার্জন করি। সেই টাকা থেকে প্রতিটি ২০টাকা মূল্যের ৫টি টিকিট একশত টাকায় কিনি। এখনো পুরস্কার পাইনি।
মেলায় আসা বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের নবম শ্রেশির এক শিক্ষার্থী সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিলনকে বলেন, আমি প্রতিদিন দু একটি করে টিকিট কিনি। প্রথম দিকে বাবা মা কিছু বলত না। এখন বকা দেয়। কিন্তু টিকিট না কিনলে ভালো লাগেনা। টিফিনের টাকা দিয়ে টিকিট কিনি। বাসায় টিভি অথবা ইউটিউবে লটারি ড্র দেখি। এখনো পুরস্কার পাইনি।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের একজন শিক্ষক সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিলনকে বলেন, আমি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে লেখা পড়া করেছিলাম। ক্যান্টনমেন্ট এর জায়গায় লটারি জুয়া আগে কখনোই দেখিনাই। লটারি শুরু হওয়ার এই কয়েক দিনে শিক্ষার্থীদের যে নেশা ধরিয়ে দিয়েছে জাতিকে তার মাশূল দিতে হবে।
স্থানীয় কেবল নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ী জাকির হোসেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিলনকে জানান, লটারি ড্র আমাদের বগুড়া অফিসের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হয়।
মেলা পরিচালনা কমিটির এক সদস্য পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিলনকে জানান, অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অফিসার কল্যাণ সমিতি (আরএওডাব্লিউএ) মেলার আয়োজন করেছেন। আপনারা কিছু জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর আইএসপিআর অথবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিসে যোগাযোগ করেন।
জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) শানজিদা মুস্তারী মোবাইল ফোনে সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিলনকে জানান, মেলাটা হচ্ছে ক্যান্টনমেন্ট এর নিজস্ব জায়গায়। আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নেয়া হয়নাই। মেলায় লটারি বাদ দিয়ে চালানোর জন্য ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এর সিইও কে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশসক জানেন। আমাদের আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমার আর কিছু করার নাই। কোথায় কোথায় টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে গাড়ি নিয়ে ঘুরে ঘুরে সেটা বন্ধ করার সময় আমার নাই।
এ বিষয়ে জানতে বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম এর সরকারি মোবাইল ফোন নাম্বারে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক হোসেন মঞ্জিল, ৬/১, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : হোসেন মঞ্জিল, ৬/১, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, বাংলাদেশ। সাব-হেড অফিস: টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২