ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড রায় ঘোষণা দোকান উচ্ছেদ নিয়ে ২ গোষ্ঠীর রণক্ষেত্র, নারী সহ আহত ২০ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা ক্ষেত্রপালা বিদ্যুতের লাইনকে কেন্দ্র করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ড্রাইভারদের অনিয়ম, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা নোয়াখালীতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর আহত ১০ পরশুরামে মাদক মামলার আসামি ফাতেমা গ্রেফতার কুড়িগ্রামে পিকআপ ও মোটরসাইকেল মুখামুখি সংঘর্ষে পিতা ও পুত্র নিহত গোপালগঞ্জ ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ১ শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় বাস এর সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত-২ ভিক্ষুককে কুপিয়ে ১৬০ টাকা ছিনতাই, কিশোর গ্যাং লিডার আটক

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে বিতর্ক, অবশেষে দুঃখপ্রকাশ

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫ ১৯২ বার পড়া হয়েছে

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে বিতর্ক, অবশেষে দুঃখপ্রকাশ

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

 

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর ‘ধর্ষণ’ শব্দ পরিহারের আহ্বান নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আজ সোমবার ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন প্রসঙ্গে আলোচনার সময় ধর্ষণকে বৃহত্তর নির্যাতনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছি। আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তবে তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “আমি দুটি শব্দ একদম অপছন্দ করি, তার মধ্যে একটি হলো ধর্ষণ। অনুরোধ করব, আপনারা এটি ব্যবহার করবেন না। এর পরিবর্তে নারী নির্যাতন বা নিপীড়ন বলুন। আমাদের আইনেও নারী ও শিশু নির্যাতন বলা হয়েছে। যে শব্দগুলো শুনতে খারাপ লাগে, সেগুলো এড়িয়ে চলি।”

কিন্তু তার এই বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, “ধর্ষণ শব্দটি পরিহারের পরামর্শ দেওয়ায় ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যে বয়সেই হোক না কেন—ধর্ষণ, ধর্ষণই। এটি একটি ভয়াবহ অপরাধ, যা যথাযথ ভাষায় প্রকাশ করা প্রয়োজন। শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে এর ভয়াবহতা লঘু করার কোনো সুযোগ নেই।”

এদিকে, কমিশনারের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নারী ও শিশু সুরক্ষায় কাজ করা পাঁচটি এনজিও—ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), সেভ দ্য চিলড্রেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “ধর্ষণকে ধর্ষণই বলতে হবে। সঠিক ভাষা প্রয়োগ না হলে, আইন প্রয়োগেও দুর্বলতা আসবে।”

সমালোচনার মুখে ডিএমপি কমিশনারের দুঃখ প্রকাশ পরিস্থিতি শান্ত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে বিতর্ক, অবশেষে দুঃখপ্রকাশ

আপডেট সময় : ০৮:০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫
print news

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

 

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর ‘ধর্ষণ’ শব্দ পরিহারের আহ্বান নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আজ সোমবার ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন প্রসঙ্গে আলোচনার সময় ধর্ষণকে বৃহত্তর নির্যাতনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছি। আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তবে তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “আমি দুটি শব্দ একদম অপছন্দ করি, তার মধ্যে একটি হলো ধর্ষণ। অনুরোধ করব, আপনারা এটি ব্যবহার করবেন না। এর পরিবর্তে নারী নির্যাতন বা নিপীড়ন বলুন। আমাদের আইনেও নারী ও শিশু নির্যাতন বলা হয়েছে। যে শব্দগুলো শুনতে খারাপ লাগে, সেগুলো এড়িয়ে চলি।”

কিন্তু তার এই বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, “ধর্ষণ শব্দটি পরিহারের পরামর্শ দেওয়ায় ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যে বয়সেই হোক না কেন—ধর্ষণ, ধর্ষণই। এটি একটি ভয়াবহ অপরাধ, যা যথাযথ ভাষায় প্রকাশ করা প্রয়োজন। শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে এর ভয়াবহতা লঘু করার কোনো সুযোগ নেই।”

এদিকে, কমিশনারের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নারী ও শিশু সুরক্ষায় কাজ করা পাঁচটি এনজিও—ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), সেভ দ্য চিলড্রেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “ধর্ষণকে ধর্ষণই বলতে হবে। সঠিক ভাষা প্রয়োগ না হলে, আইন প্রয়োগেও দুর্বলতা আসবে।”

সমালোচনার মুখে ডিএমপি কমিশনারের দুঃখ প্রকাশ পরিস্থিতি শান্ত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।