কক্সবাজারের মহেশখালী-উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। সরকারী এই কার্যালয়টি ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে এমন পরিচিতিই ছড়িয়েছে উপজেলার সবখানে।
ভুক্তভোগীরা বলেছেন সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তি চালুর মাধ্যম দেশের প্রতিটি সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষনা করেছেন। কিন্তু মহেশখালী উপজেলার সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসের কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবস্থান এর বিপরীত। ফলে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ লেনদেনের কাজ। ভোক্তাভোগী সহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের অনিয়ম দুর্নীতির পেছনে রয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুুল্লাহ আল মামুন। অফিসে কর্মরত অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজস করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষলক্ষ টাকা।
জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুুল্লাহ আল মামুন তিনি অনিয়মিত অফিস করেন। সকাল ১০টার মধ্যে অফিসে আসার কথা হলেও তিনি অফিসে আসেন বেলা ০১টার পর। টাইমের পরে এসে টাইমের আগে বেলার ৩টার মধ্যেই অফিস ত্যাগ করার জন্য তাড়াহুড়া করেন। প্রতি সপ্তাহে দলিলের পরিমাণ হয় কমপক্ষে ৬০-৭০টি। বিভিন্ন ভোক্তাভোগী কর্তৃক জানা গেছে, তারা রেজিষ্ট্রী করতে এসে তাদের নির্ধারিত রেজিষ্ট্রী ফ্রিঃ দলিল লেখকের মাধ্যমে যথারীতি ব্যাংক ড্রাফট করেন কিন্তু অফিসে দলিল নিয়ে গেলে ঘটে অন্য এক নাটক।
দলিলে উল্লেখিত পরিশোধিত মুল্যের উপর অফিসের খরচ দেখিয়ে দলিল লিখকদের এক প্রকার জিম্মি করে দলিল গ্রহীতার নিকট হতে প্রতিলাখের ১৩০০ টাকা আদায় করছেন অফিস কর্তৃপক্ষ। এদিকে সাংবাদিকরা গোপনে অফিসে গিয়ে টাকা লেনদেনের বিষয়টি সরাসরি দেখলে তারা অফিসের দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে জনসাধারণের জল্পনা কল্পনার কমতি নেই। অপর দিকে জনসাধারণের শারীরিক অক্ষমতা, খুবই অসুস্থজনিত কারণে সরকার কর্তৃক কমিশন ভিত্তিক দলিল করার নির্দেশনা থাকলেও বিভিন্ন সময়ে সাব-রেজিস্ট্রারগণ অসাধু কর্মচারীদের প্ররোচনায় টাকার মোহে বিভিন্ন মানুষের নিজ সুবিধার্থে কমিশন কবলা করে দিচ্ছেন। খবর নিয়ে জানা গেছে মহেশখালী সাব রেজিস্ট্রী অফিসের সিন্ডিকেট দলিল লিখকদের যোগসাজশে আইন বর্হিভুত অনৈতিক সুবিধা আদায় করছেন। বিরোধীয় জায়গা নিষ্পত্তি হওয়ার পরেও দলিল সম্পাদন করতে মোট অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেন সাব-রেজিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এছাড়াও আর্জেন্ট দলিলের সহিমুহুরী নকল দিবে বলে নির্দিষ্ট সময় না দিয়ে সপ্তাহের সপ্তাহ ঘুরিয়ে পাবলিক হয়রানী করে আসছে। অপর দিকে অফিস সহকারী লাভলী ও সহকারী মন্টু বড়ুয়ার চরম অতিষ্ট হয়ে পড়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোক্তাভোগি দলিল লিখকেরা। খবর নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ ও কক্সবাজারের রেজিস্ট্রি অফিস সহকারী মন্টু বড়ুয়ার অবৈধ টাকা গ্রহণের অভিযোগ অহরহ।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিবন্ধন ম্যানুয়েল ২০১৪ এ ২৬ A স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে সহকারীগন দলিল পরীক্ষা করতে পারবেন না। কিন্তু সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অফিসে কর্মরত সকল স্টাফদের হাতে হাতে সম্পাদন হওয়ার জন্য জমাকৃত দলিল। তারা প্রত্যেকে দলিল সম্পাদনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে মহেশখালী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে সাব রেজিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিবন্ধন ম্যানুয়েল ২০১৪ এ ২৬ A স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে সহকারীগন দলিল পরীক্ষা করতে পারবেন না। তারপরও আপনার অফিসে কেন সবাই দলিল সম্পাদনের কাজে নিয়োজিত এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন। তারা দলিল সম্পাদনের কাজ করছে না পাবলিককে সেবা দেওয়ার সুবিধার্থে তারা মূলত আমাকে একটু সহযোগিতা করছে।
দলিল সম্পাদনের জন্য সরকারের নির্ধারিত ব্যাংক ড্রাফ করার পরেও সাব রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিলক্ষে তেরোশো টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নানাবিধ হয়রানির শিকার হওয়া ভোগাভোগিরা এ নিয়ে প্রশাসনের সুদষ্টি কামনা করেছেন।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার; সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ। প্রকাশক কর্তৃক সিটি হার্ট, ৬৭ নয়াপল্টন, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিস : সিটি হার্ট, ৬৭ নয়াপল্টন, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ (অস্থায়ী কার্যালয়)। সাব-হেড অফিস: টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২