মোঃ ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার:
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান-এ ভয়াবহ বন্যার সময় গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া দুই ভারত-এর নাগরিককে উদ্ধার করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার যুবক সাগর সান।
সম্প্রতি তার এই সাহসিকতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহলে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণে ওমানের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে বার্গা শহরের একটি ওয়াদিগলোতে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হয় তীব্র স্রোত। গত ২৩ মার্চ সেই উত্তাল স্রোতে একটি সাদা প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানির তোড়ে ভেসে যায় এবং একটি পিলারের সঙ্গে আটকে পড়ে। এ সময় গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন ভারতের কেরালা রাজ্যের দুই নাগরিক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি দেখছিলেন এবং কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করছিলেন। কিন্তু সংকটময় মুহূর্তে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন ফতুল্লার সাগর। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
প্রথমে গাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন তিনি। পরে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে কয়েক দফার চেষ্টায় দরজা খুলতে সক্ষম হন। দরজা খোলার পর আতঙ্কিত দুই ভারতীয় নাগরিককে একে একে গাড়ি থেকে বের করে আনেন এবং পাশে থাকা এক পাকিস্তানি সহযোগীর সহায়তায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন।
সাগর সান বলেন, নিজের নিরাপত্তার কথা তখন ভাবিনি। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে তাদের বাঁচাতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই তখন ভিডিও করছিলেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি। আমি মনে করেছি, আল্লাহ হয়তো আমাকে তাদের সাহায্যের জন্যই সেখানে পাঠিয়েছেন।
সাগর সান নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার ফতুল্লা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধাপা কবরস্থান রোড এলাকার বাসিন্দা। তিনি মরহুম হেমায়েত উদ্দিন ও মমতাজ বেগম দম্পতির সন্তান। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট।
তিনি ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি তোলারাম কলেজে পড়াশোনা করেছেন। দেশে থাকাকালীন চাকরি করার পর জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল ওমানে পাড়ি জমান।
সাগর বলেন, এই অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত নয়, এটি বাংলাদেশের সুনাম বয়ে এনেছে। প্রবাসে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
সাগরের এই বীরত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং অনেকেই তাকে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার; সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ। প্রকাশক কর্তৃক সিটি হার্ট, ৬৭ নয়াপল্টন, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিস : সিটি হার্ট, ৬৭ নয়াপল্টন, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ (অস্থায়ী কার্যালয়)। সাব-হেড অফিস: টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২