মো; ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে যাকাতের ব্যয়ের আটটি খাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কুরআন-এর সূরা তাওবা ৬০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন যে, যাকাতের অর্থ ব্যয় হবে—
১. ফকির
২. মিসকিন
৩. যাকাত সংগ্রহকারীগণ (আমিল)
৪. যাদের অন্তর ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে হয় (মুয়াল্লাফাতুল কুলুব)
৫. দাসমুক্তি
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি
৭. আল্লাহর পথে (ফি সাবিলিল্লাহ)
৮. মুসাফির
এই আটটি খাত আল্লাহ নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো—আমাদের সমাজে সাধারণত ফকির-মিসকিনের মধ্যেই যাকাত সীমাবদ্ধ থাকে। অন্য খাতগুলো, যেমন ঋণগ্রস্ত, দাওয়াহ কার্যক্রম, ইসলামি শিক্ষা-প্রচার, সামাজিক পুনর্বাসন, কিংবা মুসাফিরদের সহায়তা—এসব প্রায় উপেক্ষিত। ফলস্বরূপ, যাকাতের যে সামগ্রিক কল্যাণমূলক ও বিপ্লবী অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না।
যদি আটটি খাতেই ভারসাম্যপূর্ণভাবে যাকাত বণ্টন হতো, তাহলে—
দারিদ্র্য হ্রাস পেত স্থায়ীভাবে
ঋণের বোঝায় জর্জরিত মানুষ মুক্তি পেত
ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াহ শক্তিশালী হতো
সামাজিক বৈষম্য কমে যেত
মুসলিম সমাজে অর্থের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হতো
কেন এই সীমাবদ্ধতা?
একটি বড় কারণ হলো সচেতনতার অভাব। অনেক মুসলমান মনে করেন, যাকাত মানেই কেবল দরিদ্রকে নগদ অর্থ দেওয়া। অথচ ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য যাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
এখানে আলেম-ওলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদদেরও দায়িত্ব রয়েছে। যদি খুতবা, ওয়াজ-মাহফিল, দারস ও আলোচনায় নিয়মিতভাবে যাকাতের আটটি খাত বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হতো এবং বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা হতো, তাহলে মানুষ আরও সচেতন হতো। বিশেষ করে—
“ফি সাবিলিল্লাহ” খাতের সঠিক ব্যাখ্যা
ঋণগ্রস্তদের পুনর্বাসনের গুরুত্ব
ইসলামি সমাজব্যবস্থায় যাকাতের অর্থনৈতিক ভূমিকা
সংগঠিত যাকাত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা
এসব বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা খুব প্রয়োজন।
করণীয় কী?
১. যাকাত বিষয়ে মসজিদভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি
২. স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছ যাকাত তহবিল গঠন
৩. আলেম-উলামাদের মাধ্যমে খুতবায় আট খাতের নিয়মিত আলোচনা
৪. যাকাতকে তাৎক্ষণিক দান নয়, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার
যদি মুসলিম সমাজ যাকাতকে কেবল আবেগ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ব্যবস্থাপনা হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে এটি দারিদ্র্য বিমোচন ও নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক হোসেন মঞ্জিল, ৬/১, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : হোসেন মঞ্জিল, ৬/১, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, বাংলাদেশ। সাব-হেড অফিস: টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২