ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কোম্পানীগঞ্জে ১৯ মামলার আসামি ডাকাত মাইস্যা গ্রেফতার সোনাগাজীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার ঘরে চুরি সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ফসলের বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটি চাপায় ১ তরুণের মৃত্যু ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ চড়ক মেলা অনুষ্ঠিত মুগদা–মান্ডা–মানিকনগর মাদকের স্বর্গরাজ্য,হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন ধরনের মাদক, থানায় অভিযোগের পাহাড় নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি বগুড়ার শেরপুর বরাদ্দকৃত কম্বল বিতরণ না করে আত্মসাৎ এর চেষ্টা। ফুলগাজীতে চুরির ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি তেলের সংকট সমাধানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সহজলভ্যতা ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে : রংপুরে অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো বন্ধের দাবি

যাকাতের আট খাত উপেক্ষা বাস্তবতায় ঘাটতি ও আমাদের দায়বদ্ধতা

মো; ইসমাইল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০৯:০১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মো; ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার:

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে যাকাতের ব্যয়ের আটটি খাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কুরআন-এর সূরা তাওবা ৬০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন যে, যাকাতের অর্থ ব্যয় হবে—
১. ফকির
২. মিসকিন
৩. যাকাত সংগ্রহকারীগণ (আমিল)
৪. যাদের অন্তর ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে হয় (মুয়াল্লাফাতুল কুলুব)
৫. দাসমুক্তি
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি
৭. আল্লাহর পথে (ফি সাবিলিল্লাহ)
৮. মুসাফির

এই আটটি খাত আল্লাহ নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো—আমাদের সমাজে সাধারণত ফকির-মিসকিনের মধ্যেই যাকাত সীমাবদ্ধ থাকে। অন্য খাতগুলো, যেমন ঋণগ্রস্ত, দাওয়াহ কার্যক্রম, ইসলামি শিক্ষা-প্রচার, সামাজিক পুনর্বাসন, কিংবা মুসাফিরদের সহায়তা—এসব প্রায় উপেক্ষিত। ফলস্বরূপ, যাকাতের যে সামগ্রিক কল্যাণমূলক ও বিপ্লবী অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না।

যদি আটটি খাতেই ভারসাম্যপূর্ণভাবে যাকাত বণ্টন হতো, তাহলে—
দারিদ্র্য হ্রাস পেত স্থায়ীভাবে
ঋণের বোঝায় জর্জরিত মানুষ মুক্তি পেত
ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াহ শক্তিশালী হতো
সামাজিক বৈষম্য কমে যেত
মুসলিম সমাজে অর্থের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হতো
কেন এই সীমাবদ্ধতা?
একটি বড় কারণ হলো সচেতনতার অভাব। অনেক মুসলমান মনে করেন, যাকাত মানেই কেবল দরিদ্রকে নগদ অর্থ দেওয়া। অথচ ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য যাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

এখানে আলেম-ওলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদদেরও দায়িত্ব রয়েছে। যদি খুতবা, ওয়াজ-মাহফিল, দারস ও আলোচনায় নিয়মিতভাবে যাকাতের আটটি খাত বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হতো এবং বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা হতো, তাহলে মানুষ আরও সচেতন হতো। বিশেষ করে—

“ফি সাবিলিল্লাহ” খাতের সঠিক ব্যাখ্যা
ঋণগ্রস্তদের পুনর্বাসনের গুরুত্ব
ইসলামি সমাজব্যবস্থায় যাকাতের অর্থনৈতিক ভূমিকা
সংগঠিত যাকাত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা
এসব বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা খুব প্রয়োজন।
করণীয় কী?
১. যাকাত বিষয়ে মসজিদভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি
২. স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছ যাকাত তহবিল গঠন
৩. আলেম-উলামাদের মাধ্যমে খুতবায় আট খাতের নিয়মিত আলোচনা
৪. যাকাতকে তাৎক্ষণিক দান নয়, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার
যদি মুসলিম সমাজ যাকাতকে কেবল আবেগ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ব্যবস্থাপনা হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে এটি দারিদ্র্য বিমোচন ও নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

যাকাতের আট খাত উপেক্ষা বাস্তবতায় ঘাটতি ও আমাদের দায়বদ্ধতা

আপডেট সময় : ০৯:০১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
print news

মো; ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার:

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে যাকাতের ব্যয়ের আটটি খাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কুরআন-এর সূরা তাওবা ৬০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন যে, যাকাতের অর্থ ব্যয় হবে—
১. ফকির
২. মিসকিন
৩. যাকাত সংগ্রহকারীগণ (আমিল)
৪. যাদের অন্তর ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে হয় (মুয়াল্লাফাতুল কুলুব)
৫. দাসমুক্তি
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি
৭. আল্লাহর পথে (ফি সাবিলিল্লাহ)
৮. মুসাফির

এই আটটি খাত আল্লাহ নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো—আমাদের সমাজে সাধারণত ফকির-মিসকিনের মধ্যেই যাকাত সীমাবদ্ধ থাকে। অন্য খাতগুলো, যেমন ঋণগ্রস্ত, দাওয়াহ কার্যক্রম, ইসলামি শিক্ষা-প্রচার, সামাজিক পুনর্বাসন, কিংবা মুসাফিরদের সহায়তা—এসব প্রায় উপেক্ষিত। ফলস্বরূপ, যাকাতের যে সামগ্রিক কল্যাণমূলক ও বিপ্লবী অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না।

যদি আটটি খাতেই ভারসাম্যপূর্ণভাবে যাকাত বণ্টন হতো, তাহলে—
দারিদ্র্য হ্রাস পেত স্থায়ীভাবে
ঋণের বোঝায় জর্জরিত মানুষ মুক্তি পেত
ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াহ শক্তিশালী হতো
সামাজিক বৈষম্য কমে যেত
মুসলিম সমাজে অর্থের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হতো
কেন এই সীমাবদ্ধতা?
একটি বড় কারণ হলো সচেতনতার অভাব। অনেক মুসলমান মনে করেন, যাকাত মানেই কেবল দরিদ্রকে নগদ অর্থ দেওয়া। অথচ ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য যাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

এখানে আলেম-ওলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদদেরও দায়িত্ব রয়েছে। যদি খুতবা, ওয়াজ-মাহফিল, দারস ও আলোচনায় নিয়মিতভাবে যাকাতের আটটি খাত বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হতো এবং বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা হতো, তাহলে মানুষ আরও সচেতন হতো। বিশেষ করে—

“ফি সাবিলিল্লাহ” খাতের সঠিক ব্যাখ্যা
ঋণগ্রস্তদের পুনর্বাসনের গুরুত্ব
ইসলামি সমাজব্যবস্থায় যাকাতের অর্থনৈতিক ভূমিকা
সংগঠিত যাকাত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা
এসব বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা খুব প্রয়োজন।
করণীয় কী?
১. যাকাত বিষয়ে মসজিদভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি
২. স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছ যাকাত তহবিল গঠন
৩. আলেম-উলামাদের মাধ্যমে খুতবায় আট খাতের নিয়মিত আলোচনা
৪. যাকাতকে তাৎক্ষণিক দান নয়, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার
যদি মুসলিম সমাজ যাকাতকে কেবল আবেগ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ব্যবস্থাপনা হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে এটি দারিদ্র্য বিমোচন ও নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।