ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কমলাপুর টিটি পাড়া আন্ডারপাসে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য চাপাতির ভয় দেখিয়ে পথচারীর কাছ থেকে লক্ষ টাকা ছিনতাই সুনামগঞ্জে বিয়ের ১১ দিনের মাথায় নববধূ নিখোঁজ চাটখিলে বাড়ির চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে দুর্ভোগে একটি পরিবার খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনে আগামীকাল দিনাজপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেড় বছরের সন্তানকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা রাজাপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে প্রাইভেট কার, দেড় বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু সিলেট নগরী থেকে ইয়াবা সহ আটক-১ রূপগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিক নিহত দগ্ধ ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে জায়গা ভরাট ভোগান্তিতে কৃষকরা ফটিকছড়িতে ভিডিও ফাঁসের হুমকি দিয়ে নারীকে ব্ল্যাকমেইলে গ্রেফতার-৬

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য আটক, অপহৃত কিশোর উদ্ধার হলেও অন্তরালে মূল হোতা

ফখরুল আলম সাজু
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফখরুল আলম সাজু

নারায়ণগঞ্জ জেলা বন্দরে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য আটক করেছে র‍্যাব-১১ সেই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত সেই কিশোরকে।

কিশোরটি ঢাকার আজিমপুরের বাসিন্দা, তিনি স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র, গত ১ মাস পূর্বে টেন টেন ডেটিং অ্যাপস এর মাধ্যমে ইনায়া শেখ নামক একটি আইডির সাথে পরিচয় হয়‌ তার, পরিচয়ের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে, একটা পর্যায়ে ইনায়া শেখ ভিকটিমের সাথে দেখা করতে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতে থাকে।

ভিকটিম ও সেই প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন চরধলেশ্বরী এলাকায় আসতে বললে ভিকটিম গত ২৪ ফেব্রুয়ারী তারিখ সন্ধ্যা ০৭ টার সময় উক্ত স্থানে পৌঁছায় এবং ইনায়া শেখকে কল দিলে সে উক্ত স্থানে আসতেছে বলে জানায় এবং একটু অপেক্ষা করতে বলে, এর কিছুক্ষণ পর ৯/১০ জন লোক এসে ভিকটিমকে জোর পূর্বক ধরে অপহরণ করে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতের গভীরে নিয়ে যায়, এবং সেখানে নিয়ে ব্যাপক মারপিট করে সকল মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় এবং তার কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে।

টাকা না দিলে তাকে মেরে ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে চলে যাবে, পরবর্তীতে ভিকটিমের মোবাইল থেকে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এবং ভিকটিম এর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে দ্রুত টাকা পাঠানোর কথা বলে, পরিবার অপহরণ কারীদেরকে সাময়িক শান্ত করার জন্য ৪,৫০০ টাকা বিকাশ করেন এবং পাশাপাশি বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে ভিকটিমকে উদ্ধার ও অপরাধী দেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আনতে র‍্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বিকাল ০৪:৩০ ঘটিকার সময় র‍্যাব-১১, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন চরধলেশ্বরী এলাকার গভীর ভুট্টা ক্ষেতের ভিতরে অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা সহ হানি ট্র্যাপ চক্রের ৫ জন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হল:- ১। মোঃ আকাশ (২৪), পিতা-মৃত আলী হোসেন, মাতা-জোসনা বেগম, সাং- সালেহনগর, ২১ নং ওয়ার্ড, থানা-বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, ২। মোঃ সিয়াম (২২), পিতা-মৃত আসাদুজ্জামান, মাতা-শিল্পি বেগম, সাং- আমিন আবাসিক এলাকা, থানা-বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, ৩। মোঃ ফয়সাল (২৮), পিতা-মৃত আব্দুল গফুর, মাতা-হালিমা বেগম, সাং- সৈয়দপুর, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, ৪। সঞ্জয় শীল (২০), পিতা- রাষ্ট্র চন্দ্র শীল, মাতা-চন্দনা রানি, সাং- বাবুপাড়া, থানা-বন্দর, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, ৫। মোঃ বায়েজিদ (২৩), পিতা- জামাল হোসেন, মাতা- শাহীনুর বেগম, সাং-কদমতলি, থানা- সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।

অপর দিকে বন্দরে দীর্ঘদিন যাবত একটি সিন্ডিকেট মাদক, অস্ত্র ব্যাবসা সহ হানি ট্র‍্যাপ চক্র গড়ে তুলেছে,
যার মূল হোতা হিসেবে যিনি রয়েছেন তার স্থায়ী ঠিকানা বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় বলে গোপন একটি সূত্রে জানা যায়, এছাড়াও এই সিন্ডিকেট সদস্যরা বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে তাদের অবৈধ কার্যক্রম সমূহ পরিচালনা করে আসছে।

এর আগে এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে বন্দর থানা সহ দেশের বিভিন্ন থানা সমূহে।

এই চক্রের একাধিক নারী সদস্য রয়েছে যার মধ্যে রিংকি নামক এক সদস্য বিগত ২০২৫ সালে ২ বার চক্রের একাধিক সদস্যদের নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট ধরা পড়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে, এছাড়াও এই চক্রটি বন্দরের বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবকদের হাতে মাদক তুলে দিয়ে এই হানি ট্র‍্যাপের মতো ঘটনা ঘটানো সহ তাদের দিয়ে মাদক ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের গত ২৬ ফেব্রুয়ারী আদালতে প্রেরন করা হয়েছে, বন্দরের সচেতন মহল এই চক্রের মূল হোতা সহ তাদের রাজনৈতিক শেল্টার দাতাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য আটক, অপহৃত কিশোর উদ্ধার হলেও অন্তরালে মূল হোতা

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
print news

ফখরুল আলম সাজু

নারায়ণগঞ্জ জেলা বন্দরে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য আটক করেছে র‍্যাব-১১ সেই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত সেই কিশোরকে।

কিশোরটি ঢাকার আজিমপুরের বাসিন্দা, তিনি স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র, গত ১ মাস পূর্বে টেন টেন ডেটিং অ্যাপস এর মাধ্যমে ইনায়া শেখ নামক একটি আইডির সাথে পরিচয় হয়‌ তার, পরিচয়ের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে, একটা পর্যায়ে ইনায়া শেখ ভিকটিমের সাথে দেখা করতে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতে থাকে।

ভিকটিম ও সেই প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন চরধলেশ্বরী এলাকায় আসতে বললে ভিকটিম গত ২৪ ফেব্রুয়ারী তারিখ সন্ধ্যা ০৭ টার সময় উক্ত স্থানে পৌঁছায় এবং ইনায়া শেখকে কল দিলে সে উক্ত স্থানে আসতেছে বলে জানায় এবং একটু অপেক্ষা করতে বলে, এর কিছুক্ষণ পর ৯/১০ জন লোক এসে ভিকটিমকে জোর পূর্বক ধরে অপহরণ করে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতের গভীরে নিয়ে যায়, এবং সেখানে নিয়ে ব্যাপক মারপিট করে সকল মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় এবং তার কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে।

টাকা না দিলে তাকে মেরে ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে চলে যাবে, পরবর্তীতে ভিকটিমের মোবাইল থেকে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এবং ভিকটিম এর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে দ্রুত টাকা পাঠানোর কথা বলে, পরিবার অপহরণ কারীদেরকে সাময়িক শান্ত করার জন্য ৪,৫০০ টাকা বিকাশ করেন এবং পাশাপাশি বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে ভিকটিমকে উদ্ধার ও অপরাধী দেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আনতে র‍্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বিকাল ০৪:৩০ ঘটিকার সময় র‍্যাব-১১, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন চরধলেশ্বরী এলাকার গভীর ভুট্টা ক্ষেতের ভিতরে অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা সহ হানি ট্র্যাপ চক্রের ৫ জন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হল:- ১। মোঃ আকাশ (২৪), পিতা-মৃত আলী হোসেন, মাতা-জোসনা বেগম, সাং- সালেহনগর, ২১ নং ওয়ার্ড, থানা-বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, ২। মোঃ সিয়াম (২২), পিতা-মৃত আসাদুজ্জামান, মাতা-শিল্পি বেগম, সাং- আমিন আবাসিক এলাকা, থানা-বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, ৩। মোঃ ফয়সাল (২৮), পিতা-মৃত আব্দুল গফুর, মাতা-হালিমা বেগম, সাং- সৈয়দপুর, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, ৪। সঞ্জয় শীল (২০), পিতা- রাষ্ট্র চন্দ্র শীল, মাতা-চন্দনা রানি, সাং- বাবুপাড়া, থানা-বন্দর, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, ৫। মোঃ বায়েজিদ (২৩), পিতা- জামাল হোসেন, মাতা- শাহীনুর বেগম, সাং-কদমতলি, থানা- সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।

অপর দিকে বন্দরে দীর্ঘদিন যাবত একটি সিন্ডিকেট মাদক, অস্ত্র ব্যাবসা সহ হানি ট্র‍্যাপ চক্র গড়ে তুলেছে,
যার মূল হোতা হিসেবে যিনি রয়েছেন তার স্থায়ী ঠিকানা বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় বলে গোপন একটি সূত্রে জানা যায়, এছাড়াও এই সিন্ডিকেট সদস্যরা বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে তাদের অবৈধ কার্যক্রম সমূহ পরিচালনা করে আসছে।

এর আগে এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে বন্দর থানা সহ দেশের বিভিন্ন থানা সমূহে।

এই চক্রের একাধিক নারী সদস্য রয়েছে যার মধ্যে রিংকি নামক এক সদস্য বিগত ২০২৫ সালে ২ বার চক্রের একাধিক সদস্যদের নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট ধরা পড়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে, এছাড়াও এই চক্রটি বন্দরের বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবকদের হাতে মাদক তুলে দিয়ে এই হানি ট্র‍্যাপের মতো ঘটনা ঘটানো সহ তাদের দিয়ে মাদক ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের গত ২৬ ফেব্রুয়ারী আদালতে প্রেরন করা হয়েছে, বন্দরের সচেতন মহল এই চক্রের মূল হোতা সহ তাদের রাজনৈতিক শেল্টার দাতাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।