গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম প্রার্থীর অনশনের মুখে ফেনীর এসিল্যান্ডকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার
- আপডেট সময় : ১২:২৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
ফেনী–২ সদর আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার এসিল্যান্ডকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার দাবিতে অনশন।
ফেনীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তথা এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহারের দাবিতে এক প্রার্থীর টানা ৩২ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচির পর ওই কর্মকর্তাকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের সব কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের তদন্তে গঠিত ভিজিল্যান্স কমিটির সদস্য সচিব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) নবীনেওয়াজ।
৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে তিনি অনশন শুরু করেন।
নবীনেওয়াজ বলেন, ফেনী–২ সদর আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার অভিযোগ শুক্রবার সকালে গ্রহণ করা হয়, পরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনের বক্তব্যও নেওয়া হয়, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক ওই কর্মকর্তাকে নির্বাচনি সব কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তার নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।
এই সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে অনশন ভাঙেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া তিনি বলেন, ৩২ ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ অনশনের পর আমার ন্যায্য দাবিকে সম্মান জানানো হয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তা এসিল্যান্ড প্রত্যাহারের দাবি মেনে নিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এই অর্জন কোনও একক ব্যক্তির নয়, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাহসী ভূমিকা এবং সত্যের পক্ষে অবস্থানের ফল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এর আগে তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ফেনী–২ আসনে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ চলছে।
তিনি দাবি করেন, সদর উপজেলার এসিল্যান্ড তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে একতরফা ভাবে প্রচারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী–২ আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে মঞ্জু বলেন, এসিল্যান্ডের আচরণ ও সিদ্ধান্ত একপাশে ছিল, তাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে এবং আচরণ বিধি প্রয়োগে বৈষম্য ছিল।
তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এসিল্যান্ডকে নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি ফেনী–২ আসনের খাজুরিয়া এলাকায় ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয়ের সামনে ক্যারাভ্যান উদ্বোধনের দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন, আপিলের পর শুনানি শেষে জরিমানার ১৫ হাজার টাকা ফেরতের আদেশ দেয় জেলা প্রশাসন।



























