ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মীদের ওপর জামায়াতের হামলা
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর নারী কর্মীদের ওপর জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।
২৮ জানুয়ারি বুধবার সকাল ৯টায় চরফ্যাশন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এ ঘটনা ঘটে, হামলায় প্রার্থীর মেয়ে সহ ৩ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা এ.কে.এম. কামাল হোসেনের মেয়ে মারিয়া কামাল তার দুই ভাই ও ৭-৮ জন নারী কর্মীকে নিয়ে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দাওয়াতি ও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
এসময় জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা কামালের কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের নির্বাচনের প্রচারে বাধা দেন এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।
এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সোহেল ও আলাউদ্দিন দলবদ্ধ হয়ে হাতপাখার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়, এতে মারিয়া কামাল সহ তিনজন আহত হন, স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে পাঠালে সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া কামাল বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছিলাম, কিন্তু সোহেল ও আলাউদ্দিন পরিকল্পিত ভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা শুধু আমাদের বাধাই দেয়নি, বরং শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেছে।
প্রার্থী মাওলানা কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, জামায়াত কর্মীরা নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এই হামলা চালিয়েছে, তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি ইসলাম নামধারী সংগঠনের কর্মীদের থেকে এমন বর্বরোচিত আচরণ বিস্ময়কর। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
দলটির জেলা দক্ষিণ শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল ও আলাউদ্দিন মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মীর মো. শরিফ বলেন, আমাদের কোনো কর্মী যদি এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মৌখিক ভাবে ঘটনাটি জানানো হয়েছে, তবে তারা নিজেরা বিষয়টি সমঝোতা করতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।



























