সাতকানিয়ায় নিরীহ পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাট স্বামীকে খোঁজার নামে স্ত্রী–সন্তানকে আটকে মারধর রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগ আতঙ্কে দেশত্যাগ
- আপডেট সময় : ০৮:৩৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম মাটিয়া ডাঙ্গা গ্রামে স্বামীকে খোঁজার অজুহাতে এক প্রবাসীর পরিবারকে জিম্মি করে মারধর ও ভয়াবহ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় স্বর্না মালিকা পাখি ও তাঁর সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে প্রবাসী মো. নাছের আলমের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন।
এ সময় তাঁরা নাছের আলমের স্ত্রী উম্মে সালমা, তাঁর সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। একই সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নাছের আলমের অবস্থান জানতে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে হুমকি দেন যে কোনো মূল্যে নাছের আলমকে আমাদের হাতে তুলে দিতে হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এতে উম্মে সালমাসহ পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
পরিবারের দাবি, স্বর্ণা মালিকা পাখির দীর্ঘদিনের হুমকি, সন্ত্রাসী আচরণ ও প্রাণনাশের আশঙ্কার কারণেই নাছের আলম জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বর্ণা মালিকা পাখি একসময় স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মোতালেবের পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি, হামলা ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
এ ছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বর্ণা মালিকা পাখি বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে যুব সমাজকে ফাঁদে ফেলে অনেককে আর্থিক ও সামাজিকভাবে সর্বস্বান্ত করেছেন। তাঁর ভয়ে বহু মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি এলাকাবাসীর।
ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
























