যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাফটকেই স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখলেন ছাত্রলীগ নেতা
- আপডেট সময় : ০৪:৩২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
যশোর বেনাপোল কারাফটকেই স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখলেন বাগেরহাট সদর উপজেলার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম।
কারণ, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে জটিলতা আবেদন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল, ফলে কারাফটকেই স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
২৪ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান তিনি।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি যে কারাগারে বন্দি থাকে সেই জেলার জেলা প্রশাসক বরাবর প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করতে হয়, সাদ্দাম বন্দি আছেন যশোর জেলা কারাগারে, কিন্তু তার বাড়ি বাগেরহাটে।
প্রথমে তার পরিবার বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বরাবর আবেদন করে, পরে সেখান থেকে জানানো হয় যে, যশোরে আবেদন করতে হবে, তবে সময় স্বল্পতার কারণে সাদ্দামের পরিবার আর আবেদন করেনি।
এদিকে যশোর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের সামনে পৌঁছালে সাদ্দামের পরিবারের ছয় জন নিকট আত্মীয়কে কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, এ সময় সাদ্দামকে পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
এর আগে শুক্রবার দুপুরের পর বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেক ডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী (২৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, একই ঘরে মেঝেতে পড়ে ছিল তার নয় মাসের শিশু সন্তান নাজিমের নিথর দেহ।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী।
পুলিশ জানান, স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং শিশুটিকে মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।
নিহত স্বর্ণালীর স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি, গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি, কিন্তু মুক্তি দেওয়া হয়নি, উনি তো হত্যা মামলার আসামি না, রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন, মুক্তি না পাওয়ায় আমরা অনেকেই এসেছি কারাগারে, কিন্তু ছয়জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি।
সাদ্দামের শ্যালিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রাজনীতির কারণে আজ একজন মানুষ স্ত্রী-সন্তানের জানাজায়ও যেতে পারছে না, সে খুনি নয়, তবুও প্রশাসন তাকে ছাড় দিল না, এই নির্মমতা আমরা মেনে নিতে পারছি না।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, কারাফটকে মরদেহ নিয়ে আসার পর আমরা ছয় জনকে প্রবেশ করতে দিই, সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে, তার মরদেহ যদি স্বজনরা কারাফটকে আনেন, তাহলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে দেখতে দিই।
এদিকে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, যেহেতু সাদ্দাম যশোর কারাগারে রয়েছেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ার, আইনগত কারণে এখানে আমাদের কিছু করার ছিল না, তার মুক্তির বিষয়টি দেখবে যশোর জেলা প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ দুটি মাইক্রোবাসে করে ১০-১২ জন স্বজন কারাগারে আসেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ৬জন স্বজনসহ অ্যাম্বুলেন্সটি কারাফটকে প্রবেশ করে, ৫ মিনিট পর তাদের বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
এ সময় কারাগারের সামনে স্থানীয়দের ভিড় জমে ওঠে হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।



























