লক্ষীপুর চন্দ্রগঞ্জে বাজারে অস্থায়ী দোকানের নামে চলছে চাঁদাবাজি
- আপডেট সময় : ০২:০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
লক্ষ্মীপুর জেলা চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারে স্থায়ী দোকান গুলোর সামনের ফুটপাত ও রাস্তার জায়গা দখল করে চলছে অস্থায়ী ভ্রাম্যমান দোকানের লক্ষ লক্ষ টাকার রমরমা বাণিজ্য।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব দোকান বসে থাকে স্থায়ী দোকান মালিক দের সামনেই, এতে স্থায়ী ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি বাজারের শৃঙ্খলাও নষ্ট হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন এই অস্থায়ী দোকান গুলোর ভাড়া বা চাঁদা যাচ্ছে কার পকেটে তা কেউ জানেন না।
চন্দ্রগঞ্জ বাজারের একাধিক স্থায়ী ব্যবসায়ী জানান, আমরা নিয়মিত দোকান ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স ও কর দিয়ে আসি, অথচ দোকানের সামনে ফুটপাতে বা রাস্তার ধারে ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে কিছু প্রভাবশালী লোক।
চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী তাদের অভিযোগ, এসব অস্থায়ী দোকানদাররা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বসে, কিন্তু প্রতি সপ্তাহে বা মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয় কিছু স্থানীয় দালাল বা প্রভাবশালীদের।
চন্দ্রগঞ্জ বাজারের এক ভ্রাম্যমান দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা কেউ জোর করে বসি না, প্রতি মাসে ১০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় কিছু লোককে, না দিলে দোকান উঠিয়ে দেয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এই ভাড়া আদায় হয় কখনো বাজার ইজারার কিছু অসাধু সদস্যের মাধ্যমে এবং কখনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের লোকদের মাধ্যমে।
এছাড়াও এসব অস্থায়ী দোকান বসাতে প্রভাবশালীদের দিতে হয় লক্ষ লক্ষ টাকা।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, ফুটপাত দখল ও অনুমতিহীন দোকান বসানো আইনত দণ্ডনীয়, আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।
তবে বাজারের প্রতিদিনের এই দৃশ্য দেখে বোঝা যায়, এই ব্যবস্থার স্থায়িত্ব প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবেই টিকে আছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
তারা চায় যে, স্থায়ী ব্যবসায়ীদের সামনে ফুটপাত বা রাস্তা দখল বন্ধ করা হোক এবং অবৈধভাবে ভাড়া বা চাঁদা আদায়কারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।
চন্দ্রগঞ্জ বাজারের এই অস্থায়ী দোকানের দাপট এখন শুধু বাজার ব্যবস্থাপনার নয়, নৈতিকতারও প্রশ্ন জীবিকার তাগিদে মানুষ দোকান বসাবে, সেটি স্বাভাবিক কিন্তু যদি তার আড়ালে চলে অবৈধ অর্থের লেনদেন, তাহলে বাজারের শৃঙ্খলা ও ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ দুটোই বিপন্ন হয়ে পড়ে।
এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থায়ী ব্যবসায়ী ও সাধারণত জনগণ।



























