জলঢাকায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীর ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তি উদ্ভাবন
- আপডেট সময় : ১২:৫৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, বুরো চিপ রংপুর বিভাগ
অদম্য মেধা আর তথ্য প্রযুক্তির প্রতি নেশা থেকে ড্রোন, রকেট,ও মিসাইল প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে নীলফামারীর জলঢাকা পৌর শহরের ব্রাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী দেব স্বারতী তীর্থ। সে করোনাকালীন ঘরবন্ধী সময় কে কাজে লাগিয়ে যে প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করেছিল।আজ তা তাকে নিয়ে গেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদার আসনে। তবে অর্থের কাছে বারবার থমকে যাচ্ছে এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীর ভবিষ্যৎ গবেষণা ও উদ্ভাবন সহ বিদেশের মাটিতে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন।
দেব স্বারতী তীর্থ জানায়, তার উদ্ভাবিত ‘মাল্টি-ফাংশনাল ড্রোন’ সাধারণ কোনো যন্ত্র নয়; এতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা, অবজেক্ট ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন। যা মূলত সামরিক বাহিনী বা উদ্ধার অভিযানের উপযোগী ‘মিলিটারি গ্রেড’ ফিচারে সমৃদ্ধ। ড্রোনটি সেন্সর ব্যবহার করে নির্দিষ্ট এলাকা স্ক্যান করতে এবং সংগ্রহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। ড্রোন প্রযুক্তির সীমানা ছাড়িয়ে তীর্থ এখন কাজ করছে অত্যাধুনিক রকেট ও মিসাইল সিস্টেম নিয়ে। তার তৈরি মিসাইল সিস্টেমে যুক্ত করা হয়েছে লো রাডার সিগনেচার ডিজাইন ও এভেসিভ ম্যানুভারিং টেকনিক, যা শত্রুপক্ষের পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। তীর্থ আরো জানান ভবিষ্যতে সাবমেরিন প্রযুক্তি ও পানির কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার রূপরেখা তৈরি করে রেখেছি। এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়ানোর সুযোগ দেব স্বারতী তীর্থের সামনে এবারই প্রথম নয়। ইতিপূর্বে মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ডাক পেলেও বিমান ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ জোগাতে না পারায় সেই স্বপ্ন, স্বপ্নেই রয়ে গেছে।
বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় রকেট ও মিসাইল গবেষণা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ হাতে পেয়েও একই কারণে আবারো অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার যাত্রা।
তার বাবা তাপস কুমার দাস ও মা সঞ্চীতা সাহা এ প্রতিনিধিকে আক্ষেপ করে জানান, তার সন্তানের মেধা থাকলেও তার স্বপ্ন পূরণে দারিদ্র্যতা আজ বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জলঢাকা ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র নাথ রায় বলেন, “তীর্থ আমাদের গর্ব। একজন কিশোরের হাতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা বিরল। কিন্তু উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ছাড়া এই মেধাকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।” বর্তমানে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীর গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সুদৃষ্টি সহ সহযোগিতাই এখন তার একমাত্র ভরসা।
























